শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

  ১২ অক্টোবর, ২০২১

পাহাড়ে ধান কাটার উৎসব

পার্বত্য অঞ্চলের সবুজ পাহাড়ে জুমের পাকা ধান পরিণত হয়েছে সোনালি রঙে। চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হওয়ায় এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় ভালো ফলনও হয়েছে। পাহাড়ি পল্লীগুলোতে শেষ মুহূর্তে চলছে জুম কাটার উৎসব। কিশোর-কিশোরী যুবক-যুবতীসহ পরিবারের সবাই জুমের পাকা ধান কাটতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পাহাড়ের ১১টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র স্রোতে সম্প্রদায় আদিকাল থেকে এখনো পর্যন্ত জুম চাষের মাধ্যমেই সারা বছরের জীবিকা সংগ্রহ করে থাকে। এ সময় নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলছে জুম উৎসব। পাহাড়ের ১১টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র স্রোতে সম্প্রদায় আদিকাল থেকে এখনো পর্যন্ত জুম চাষের মাধ্যমেই সারা বছরের জীবিকা সংগ্রহ করে থাকে। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলে নবান্ন উৎসব। গোত্র ভেদে পাহাড়ীরা উৎপাদিত ফসল দেবতাকে উৎসর্গের মাধ্যমে এই নবান্ন উৎসব উদযাপন করে থাকে।

এদিকে বেশ কয়েকজন জুম চাষী জানান পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী পাহাড়ীদের আদি পেশা জুম চাষ। যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় দূর্গম পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষ জুম চাষের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি এবং সদর উপজেলার দূর্গম পাহাড়ের জুমে ধান চাষ হয়ে থাকে। প্রতিবছর এপ্রিল মাসে জমি প্রস্তুত করে লাগানো হয় জুমের ধান। এছাড়া চিনার, ঢেঁড়শ, মিষ্টি কুমড়া, মারফা, বেগুন, মরিচ, কাকরোলসহ বিভিন্ন ফসল। আর ফলন ভাল না হলে বছরের শেষে কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয় তাদের। তবে এ বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও উঁদুর বন্যা না হওয়ায় সবুজ পাহাড় ভরে গেছে সোনালী ধানে। পাহাড়ী পল্লীগুলোতে চলছে এখন জুমের ধান কাটার উৎসব। আর ফলন ভাল হওয়ায় খুশি জুমিয়া পরিবারগুলো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মতে, এ বছর বান্দরবানে ৮ হাজার ৯৭৮ হেক্টর পাহাড়ী জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৮ টন। গতবছর ৯ হাজার ২০ হেক্টর জমির বিপরীতে ধান উৎপাদিত হয় ১৭ হাজার ১৩৮ টন ধান। তবে এবছর ফলন ভাল হওয়ায় জুমিয়া পরিবারগুলোর সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

অন্যদিকে বান্দরবান সদর উপজেলার কৃষিবিদ ওমর ফারুক বলেন, পার্বত্য জেলা মুলত পাহাড়ীদের জুমচাষ এটি অন্যতম একটি ফসল। এইটি বাংলাদেশের চাষাবাদ থেকে ভিন্নতর পদ্ধতির চাষাবাদ। বিশেষ করে ধান মুসলা জাতিয় ফসল নিয়ে এলাকায় জুম চাষ হয়ে থাকে। তবে এবছর ফলন ভাল হওয়ায় জুমিয়া পরিবারগুলোর সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close