আকরামুল ইসলাম, সাতক্ষীরা

  ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

সাতক্ষীরা

মাছের দাম কম, মাথায় হাত ঘের-মালিকদের

সাতক্ষীরায় মাছের দাম কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঘের মালিকরা। তারা ঘের থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। মাছের দাম বৃদ্ধির আশায় রয়েছেন এসব মাছ চাষি। এতে বাজারে সরবরাহ কমেছে। ঘের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাছ চাষ বেশি হওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে ঠিকই, সেই সঙ্গে কমেছে দামও। তবে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, করোনাকালে মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। মূলত এ কারণে মাছ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে যাওয়ায় দাম কমেছে।

সাতক্ষীরায় মাছের বড় বাজার সুলতানপুর মাছ বাজার। এ বাজার থেকে প্রতিদিন ৩-৪ টন মাছ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আগে বিক্রি হতো ৭ থেকে ৮ টন মাছ। বাজারে মাছের সরবরাহ কমেছে বলে জানান মাছ বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম। তিনি বলেন, মাছের বাজার খুব খারাপ। দাম কম তাই সরবরাহও কমেছে। অনেক ব্যবসায়ী দিন শেষে মাছ বিক্রি করতে পারছে না। দাম কম থাকলে সরবরাহ কমে যায়।

------
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প মাছের সরবরাহ এখন বেশি। বাজারে হরিণা চিংড়ি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, বড় চিংড়ি ৪০০ টাকা। আগে ছিল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি। ভেটকি মাছের মূল্য প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। আগে ছিল ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। কই মাছের কেজি ৩০০ টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকায়। বাগদার কেজি ৮৫০ টাকা। আগে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হতো। তেলাপিয়া মাছের কেজি ৯০ থেকে নেমেছে ৭৫ টাকায় ঠেকেছে। এছাড়া পারসে মাছ ৩৫০ টাকা থেকে নেমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায়। মৃগেল ১০০, দাতিনা ১৭০, রুই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। এসব মাছ কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমেছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা প্রতি কেজি। সব মাছের দাম কমেছে বলে জানান খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা।

বড় বাজারের আমিনিয়া ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী জয়নাল হোসেন বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ট্রাক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ট্রান্সপোর্ট হচ্ছে। ট্রাক চিটাগং, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার ফিশের স্বত্বাধিকারী সাব্বির হোসেন বলেন, আমি প্রতিদিন ৩০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠাচ্ছি। আগে ৬০০ থেকে ৭০০ কেজি পাঠাতাম। এখন চাহিদা কম থাকায় পাঠাতে পারছি না। উত্তরবঙ্গে বর্তমানে সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আমাদের এখানকার মাছের চাহিদা কমেছে। সাতক্ষীরার মাছের বড় আড়ত বিনেরপোতা মাছ বাজার। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয় এ বাজার থেকে। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ যথেষ্ট কম বলে জানিয়েছেন বিনেরপোতা মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহসভাপতি মো. আরশাদ আলী।

সাতক্ষীরা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলায় মাছ চাষি রয়েছে ৬৬ হাজার। এর মধ্যে বাগদা চিংড়ি চাষি ৫২ হাজার ৩৪৫ জন। গলদা চিংড়ি চাষি রয়েছে ৯ হাজার ৮৬৭ জন। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষি রয়েছে আরো ৩ হাজার ৭৮৮ জন। জেলায় এ বছর বাগদার চাষ হয়েছে ৬৬ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছে ২১ হাজার ৪৪১ মেট্রিক টন। তাছাড়া গলদার চাষ হয়েছে ৯৩৭৮ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছে ৬৫৪২.৫ মেট্রিক চন। সব মিলিয়ে জেলায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন।

ঘের ব্যবসায়ী আরশাদ আলী জানান, মাছের বাজার এখন ভালো নেই। মাছের চাষ বেশি হওয়ায় উৎপাদন বেশি। আগে মাছের চাষ কম ছিল দাম বেশি ছিল, মানও ছিল ভালো। আমার ৫০০ বিঘা মাছের ঘের রয়েছে। দাম কম থাকায় মাছ ধরছি না।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, মাছের উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কমেছে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। মূলত করোনাকালে মানুষের অর্থনৈতিক সংকট এর জন্য দায়ী।

 

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়