তাড়াশ-উল্লাপাড়া

আশ্বিনের বন্যায় ডুবে গেছে ৫০০ হেক্টর রোপা-আমন

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

তাড়াশ ও উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিরাজগঞ্জে আবার দেখা দিয়েছে বন্যা। হঠাৎ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার দুই উপজেলার প্রায় ৫০০ হেক্টর রোপা আমন তলিয়ে গেছে।

তাড়াশে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান আবার বন্যায় তলিয়ে গেছে। যে সময় ধান রোপণ করার পর জমি নিরানি দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ঠিক সে সময়ই আবার বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আগের বন্যায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বারুহাস, তালম, দেশীগ্রাম, মাধাইনগর ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চল। তখন প্রায় ৬০০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রোপা আমনে আবার ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছিল কৃষক।

বারুহাস ইউনিয়নের কুসুম্বী গ্রামে কৃষক দীপক কুমার শাহা বলেন, এ বছরের বন্যায় আমার আমন ধানের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তারপর পানি নেমে যাওয়ায় অনেক দূর থেকে চারা নিয়ে এসে জমি রোপণ করেছি। সে জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার লুনা বলেন, এবারের প্রথম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে সেজন্য ৭ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরিতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছিল। এ ছাড়া একটি ভাসমান বীজতলা তৈরি এবং ৪০০ কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছিল। তারপর আবার বন্যার তাড়াশে ৩৬২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখনো যদি পানি নেমে যায় তবুও রক্ষা পাবে কৃষক।

এদিকে উল্লাপাড়ায় আশ্বিনের বন্যার পানি ফের আবাদি জমিতে ঢুকছে। বিভিন্ন এলাকায় আমন খেত জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। গত দিন সাতেক হলো কম বেশি মাত্রায় পানি বেড়েছে। অনেক নিচুতে লাগানো রোপা আমন খেতে পানি উঠছে। প্রতিনিয়ত পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ বাড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানানো হয় এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকার নিচু মাঠে প্রায় ১০০ হেক্টর রোপা আমন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

এবারে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বিভিন্ন মাঠের জমি যেকোনো ফসলের আবাদে বীজ বোনা কিংবা চারা লাগানোর উপযোগী হয়েছিল। সবজি ফসলের আবাদে কৃষকরা বীজতলা এবং জমি প্রস্তুত শুরু করেছিলেন। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় কৃষকরা বীজ বোনা কিংবা চারা লাগানো বন্ধ রাখছেন বলে জানা যায়। অনেকে ডাল ফসল মাসকলাই বীজ ছিটানো বন্ধ রাখছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আজমল হক বলেন, আশ্বিনের বন্যার পানি নিচু এলাকার মাঠগুলোয় রোপা আমন ধানের ক্ষতি এবং গত দুদিনের ভারী বর্ষণে নানা জাতের সবজির বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

"