খুলনা ব্যুরো

  ৩০ এপ্রিল, ২০২২

খুলনায় খাল-পুকুর উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প

সংরক্ষণ হচ্ছে ২৩ পুকুর

নগরবাসীর পানি সমাস্যার সমাধানে পুকুর সংরক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন। এ প্রকল্পে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভের পানি পুনঃভরণ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও নগরীর ১৪টি ওয়ার্ডের ২৩টি পুকুর সংরক্ষণ ছাড়াও কয়েকটি খাল ও ড্রেন উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মান সরকারের সহযোগিতায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের আওতায় এজন্য পুকুরগুলোর তালিকাও এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এ প্রকল্পটি চলবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।

কেসিসির সূত্রটি বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পুকুরের আশপাশের জনসাধারণের ভূগর্ভের পানি সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে-জুন মাস পর্যন্ত ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা থেকে নগরবাসী হয়তো কিছুটা মুক্তি পাবে।

জার্মান সরকারের সহযোগিতা নিয়ে যে ২৩টি পুকুর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে কেসিসির তিন নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ্বরপাশা কবরখানা পুকুর, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাস্তুহারা পার্ক পুকুর ও বাস্তুহারা কলোনি পুকুর, ছয় নম্বর ওয়ার্ডের বিএল কলেজ পুকুর, ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মুজগুন্নি ১৮ নম্বর রোডের তারের পুকুর ও ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক পুকুর, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তিন নম্বর ক্যাম্প পুকুর, সাত নম্বর ক্যাম্প পুকুর ও খালিশপুর হাউজিং বাজার পুকুর, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (চরের হাট) পুকুর, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পিজিএম কলোনি পুকুর, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের হরিজন কলোনি পুকুর, সোলার পার্ক পুকুর, মহেশ ট্যাংক পুকুর ও বয়রা হাইস্কুল পুকুর, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পুকুর ও তা’লীমুল মিল্লাত রহমাতিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা পুকুর, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বানরগাতী বটতলা মন্দির পুকুর ও লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ পুকুর, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিউনিসিপ্যাল ট্যাংক রোড পুকুর ও খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসা পুকুর, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলা হাসপাতাল পুকুর এবং ৩১ নম্বর হাজী মালেক জান্নাতুল বাকি কবরখানা পুকুর।

অবশ্য ২৩টি পুকুর সংরক্ষণ ছাড়াও দৌলতপুরে শহর রক্ষাবাঁধ, মহেশ্বরপাশা শ্মশান বাঁধ, রূপসা রিভার ফ্রন্ট পার্ক সংরক্ষণ, নবীনগর ড্রেন নির্মাণ, সোনাডাঙ্গা মজিদ সরণির ড্রেন উন্নয়ন, এম এ বারী সড়ক ড্রেন উন্নয়ন, সোনাডাঙ্গা বাইপাস ড্রেন উন্নয়ন, বাস্তুহারা খাল সংস্কার, বাস্তুহারা ড্রেন উন্নয়ন, দেয়ানা চৌধুরী খাল উন্নয়ন, লবনচরা স্লুইস গেট উন্নয়ন, আলুতলা স্লুইস গেট উন্নয়ন এবং নিরালা খাল সংস্কারের কার্যক্রমও এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৯৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি চলমান থাকবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।

কেসিসির সূত্র জানান, নগরীর ওই ২৩টি পুকুর সংরক্ষণ পরিকল্পনায় রয়েছে পুকুরের চারপাশে রিটার্নিং ওয়াল ও ঘাট নির্মাণ, চারপাশে ওয়াকওয়ে করা ও বসার জায়গা তৈরি করা। সর্বোপরি পুকুরগুলোর চারপাশে গাছপালা রোপণের মধ্যদিয়ে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। পুকুরগুলোতে প্রতি বছর বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি শুকনো মৌসুমে যাতে পানি নষ্ট না হয় সেজন্য পানি পরিবর্তনও করার ব্যবস্থা থাকবে। সেইসঙ্গে নগরবাসী এসব পুকুরে তাদের সন্তানদের সাঁতার শেখাতে পারবে।

তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর নিতে হলে অধিগ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে কেসিসির সূত্রটি বলছে, এজন্য সরকারের অর্থায়নে পৃথক একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আড়াই হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়। বিশেষ করে ওই প্রকল্পটি যখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়ে মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে তখন আরো এক হাজার কোটি টাকা কমিয়ে অর্থাৎ দেড় হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্পটির প্রস্তাব দেওয়ার জন্য বলা হয়। যেটি নিয়ে সম্প্রতি কেসিসির মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির-উল-জব্বার জানিয়েছেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পাঁচটি খালের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) এখনো পাওয়া যায়নি। তারপরও আর এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রস্তাবটি ডিপিপি আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আশা করা হচ্ছে, এর মধ্যেই এনওসি পাওয়া যাবে। তবে ২৩টি পুকুরের মধ্যে কেসিসির মালিকানাধীনই রয়েছে ১১টি। বাকিগুলোর মধ্যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুকুর ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো পুকুর নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২টি পুকুরের তালিকা করা হলেও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা কেডিএ, বিভাগীয় গণগ্রন্থাগারসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তিপত্র না পাওয়ায় তালিকা থেকে ৯টি পুকুর বাদ দিয়ে ২৩টি রাখা হয়েছে। এছাড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে করা ২৩টি পুকুরের মধ্যেও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাঁচটি পুকুরের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, নগরবাসীর পানি সমস্যা সমাধানে কেসিসির এমন উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান এখনো এ উদ্যোগে সাড়া দেয়নি তাদের উচিত সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে এ ধরনের ভালো উদ্যোগের সঙ্গে শামিল হওয়া।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়