চট্টগ্রাম ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পে অনিশ্চয়তা কাটছে

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

মিনহাজুল ইসলাম, চট্টগ্রাম ব্যুরো

নগরীর সব উন্নয়ন প্রকল্পের মতো করোনা মহামারির কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল স্যুয়ারেজ প্রকল্প। তবে বিদেশি পরামর্শকরা করোনা-পরবর্তী দেশে ফেরায় প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার ঘোর কেটেছে। করোনা পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে গেলে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর এসে কাজে যোগ দিয়েছেন।

এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অন্যতম ধাপ টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, স্যুয়ারেজ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্যানিটেশন ফ্যাসিলিটিস নির্মাণের মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। প্রায় ৩ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা ব্যয় ছয়টি জোনে ভাগ করে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০২১ সালের শুরু থেকে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করা হবে এবং শেষ হবে ২০২৩ সালে। তৈরি করা মাস্টার প্ল্যানের আলোকে প্রথম ধাপে হালিশহর জোনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। নগরীর হালিশহরে ওয়াসার ১৬৩ একর জায়গায় পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন, ১৫টি পাম্প স্টেশন, ১৪৪ কিলোমিটার সার্ভিসলাইন করা হবে। যার মাধ্যমে বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধন করা হবে। অবশিষ্ট কঠিন বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি হবে। যার জন্য তৈরি হবে দিনে ৮০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি পয়োশোধনাগার এবং দিনে ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি ফিকেল সø্যাজ শোধনাগার। প্রথম ধাপে এই প্রকল্পে একটি পয়োশোধনাগার স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিশ লাখ নগরবাসীর পয়োবর্জ্য স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার আওতায় আনা যাবে। ৬ জোনের বাকি ৫টি জোন হলো, কর্ণফুলী নদীর তীরে ৩টি, আরেফিন নগরীতে ১টি এবং ফতেয়াবাদে ১টি।

স্যুয়ারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, দেশে করোনা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের পরামর্শকরা নিজ দেশে চলে গেলেও গত ১৪ সেপ্টেম্বর ফিরে এসেছেন। প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের টেন্ডারের কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে। স্যুয়ারেজ প্রকল্পের আগামী মাসে ঠিকাদার নিয়োগের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। শুরুতে আমরা একটি হালিশহর জোনে এই কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছি। অবশিষ্ট পাঁচটি জোনে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। পাঁচটি পয়োশোধনাগার বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা চলছে।

 

 

"