নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৮ ঘণ্টা আগে

বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনে অনার্স বাতিলের খবরটি গুজব

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করতে বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে- এমন দাবিতে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ছড়িয়ে পড়া সংবাদে দাবি করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ছয়টি বিষয়ে অনার্স কোর্স পুনর্গঠন বা বাতিল করে সেগুলো অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে কোনো বিষয়ের অনার্স কোর্স বন্ধ করার পরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেই বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘আমার জানামতে এরকম কোনো আলোচনা হয়নি। আর বাংলা মাতৃভাষা, এটা কি বাদ দেওয়া যেতে পারে?’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘অনার্স বাতিল হচ্ছে কিছু বিষয়ে, এটা আমি নিউজ হিসেবে দেখেছি। আমাদের সরকারের দিক থেকে অফিসিয়ালি জানানোর আগ পর্যন্ত এরকম কোনো নিউজকে আমি গুরুত্ব না দেওয়ার জন্যই বলব।’ এদিন দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনার্স কোর্স বন্ধের ব্যাপারে সরকার কিংবা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। অনার্স (স্নাতক সম্মান) পর্যায় থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনসহ ছয়টি মৌলিক বিষয় বাদ বা বাতিল করার দাবিটি সম্পূর্ণ গুজব।

একাধিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘বাতিল হচ্ছে বাংলাসহ ৬ বিষয়ের অনার্স কোর্স’ এমন শিরোনামে ৯ জুন সকালে সংবাদ প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এমন তথ্য সামনে আসার পর থেকেই নেটিজেন ও শিক্ষাবিদরা সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের উদ্বেগ ও মিশ্র মতামত শেয়ার

করতে শুরু করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি সালেহ হাসান নকীব নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ এবং ‘হাতুড়ে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের তথ্য-উপাত্তহীন কথাবার্তা’ বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে জাব্বার নাঈম নামে একজন ব্যবহারকারীও দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়, অনার্স কোর্স থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’। শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত কর্মকর্তা নূরুল আফসার দীপু জানান, বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ বা বিষয় বাতিলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। নূরুল আফসার দীপু এ গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খোদ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনার্স পর্যায় থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় বাদ দেওয়ার খবরটিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো বিষয় বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। উল্টো চাহিদা অনুযায়ী অনার্সে নতুন বিষয় যুক্ত করার পর্যালোচনা চলছে।’

একই বিষয়ে গতকাল সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘অনার্স (স্নাতক সম্মান) পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ থাকবে। তবে সব জায়গায় থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘এসব বিষয়ে অনার্স থাকবে না, এটা আমি মনে করি না। তবে আমরা কতগুলো জায়গায় রাখব, কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে, সে আলাপগুলো হয়তো হতে পারে। কারণ আমরা বারবার বলছি, আমাদের দক্ষ জনগোষ্ঠী প্রয়োজন। প্রতি বছর আমাদের দেশে ২১ থেকে ২২ লাখ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করেন। সরকারি, বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় না।’

উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কার এবং কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে ওই সংস্কার পরিকল্পনার কোথাও অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস বা দর্শন বিষয় বাতিলের কোনো ঘোষণা বা প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। এ খসড়া পর্যালোচনার মাঝেই হুট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়গুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়, যা পরবর্তী সময়ে কিছু গণমাধ্যমেও সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়