পাবনা প্রতিনিধি
ধর্ষণে অভিযুক্তের বাড়িতে ক্ষোভের আগুন
সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিন জনের প্রাণহানি

পাবনা সদর উপজেলায় নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। তবে ওই বাড়িতে থাকা সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে উৎসুক জনতার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পাশের নতুনপাড়া গ্রামের শুকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়। পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলো- মৃত কাশেম প্রামাণিকের ছেলে নাইম প্রামাণিক (২২), শফিক শেখের ছেলে ইয়াছিন শেখ (২১) ও শিমুল প্রামাণিকের ছেলে তুহিন প্রামাণিক (২০)। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুন বিকেলে পাবনার ভাড়ারা এলাকার পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ৪ জুন তার লাশ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত নাইমের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত পক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধ ব্যক্তিরা সবাই প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতা।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার একজন এবং মঙ্গলবার দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পীরপুরে পদ্মা নদীতে ওই স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ছাত্রীর ভাই খালিদ হাসান বাদী হয়ে ৪ জুন তিনজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, ৩ জুন পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা এলাকায় পদ্মা নদী থেকে বস্তাবন্দি ও হাত-বাঁধা অবস্থায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. নাঈমসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলো- পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. ইয়াসিন শেখ ও মো. তুহিন প্রামাণিক। লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, পাবনা শহরের কাশেম প্রামাণিকের ছেলে নাঈমের সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২ জুন ওই ছাত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় প্রেমিক নাঈম। পরে তাদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে নাইম পুলিশকে জানায়, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো চাকু বের করে কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখায়। এতে ওই ছাত্রী শান্ত না হলে নাঈম তাকে গলা টিপে ধরে। এতে শ্বাসরোধে মারা যায় মেয়েটি। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর নাঈম ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার বন্ধু ইয়াসিন ও তুহিনকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে। পরে তারা বাজার থেকে প্লাস্টিকের মুরগির বস্তা ও ব্যাগ সংগ্রহ করে কিশোরীর হাত বেঁধে লাশটি বস্তাবন্দি করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, ৪ জুন তার লাশ দাফনের পরে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আসামিদের বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন। এদের মধ্যে তিনজন মারা যান।
"








































