প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক
শততম দিন পেরোল ইরান যুদ্ধ

একদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলছে আলোচনা; অন্যদিকে সংঘর্ষও পুরোপুরি থামেনি। এভাবেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ গতকাল রবিবার ১০০ দিন পার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ মার্কিন জনগণের কাছে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিনও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে হুমকি তৈরি করা দুটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনাটি এমন একসময়ে ঘটল যখন মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির তেহরান সফরের মধ্য দিয়ে নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টারও আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খবর সিএনএন ও আলজাজিরার।
যুদ্ধ শুরুর আগেই বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে বোমা হামলার বিরোধিতা করছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও সেই চিত্র বদলায়নি। অনেক ভোটার মনে করছেন, এ যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক শিবলি তেলহামি বলেন, ‘এটা এখন মোটামুটি স্পষ্ট যে খুব কম মার্কিন নাগরিকই মনে করেন যে ইরানের সঙ্গে এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লাভ হচ্ছে।’ মার্কিন জনসমর্থনের এ ঘাটতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুদ্ধ নিয়ে মানুষের অসন্তোষ নিজ দেশে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের আশা করছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। তারা সফল হলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের বাকি সময়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির বড় অংশই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ পোল’ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে জিতবে বা এরই মধ্যে জিতেছে। এ ফলাফল ইঙ্গিত দেয়, যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বারবার করা বিজয়ের দাবির ওপর জনগণ পুরোপুরি আস্থা রাখছে না। জরিপে আরো দেখা গেছে, রিপাবলিকান ভোটারদের ৩৩ শতাংশসহ মোট ভোটারের বেশিরভাগ মনে করেন, এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাব বেশি ফেলেছে। অন্যদিকে জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যুদ্ধের প্রভাব নেতিবাচকের তুলনায় ইতিবাচক বেশি।
এদিকে পাকিস্তানি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির তেহরান সফরের মধ্য দিয়ে নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টারও আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তহরানে পৌঁছে নাকভি জানান, তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ চিঠি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে হস্তান্তর করবেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর একটি বার্তাও পৌঁছে দেবেন। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিশেষ চিঠির বিষয়ে নাকভি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা।’ এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বর্তমানে একটি অচলবস্থায় আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই এ অচলবস্থা ভাঙতে হবে।’ এ সময় তিনি জব্দ থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের দাবি জানান।
তবে এ সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কৌশল এখন ভিন্ন। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় মিত্রদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটির ক্ষতিপূরণ জোগাতে জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের উপায় খোঁজা হচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ তাদের হাতে থাকা সব উপায় কাজে লাগাবে। এদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইরান বরাবরই লেবানন নিয়ে জোর দিয়ে আসছে। তারা বলছে, সেখানকার সংঘাত ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শনিবার এ যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের আলোচনা করতে লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হাইকাল পাকিস্তানে গেছেন। তবে হামলা অব্যাহত থাকায় ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত অবসানের স্পষ্ট লক্ষণ নেই।
"








































