নিজস্ব প্রতিবেদক
হামের উপসর্গে আরো সাত শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে দেশে আরো ৭ শিশু মারা গেছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৮৭ জন। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ২২১ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬৬ শিশু। হামের উপসর্গে ঢাকায় চার, চট্টগ্রামে এক, ময়মনসিংহে এক, খুলনায় এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫২৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯১ শিশু। হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬২০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭৯ হাজার ১২ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৪ হাজার ২৬৩ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬০ হাজার ৮৪ শিশু বাড়ি ফিরেছে। এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। টিকায় সংক্রমণ কিছুটা কমেছে বলেই প্রতীয়মান। প্রায় দুই মাস আগে ৫ এপ্রিল হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছিল। অনেকেরই আশা ছিল টিকা দেওয়া শুরু হলে হাম কমবে, নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। কিন্তু হামের সংক্রমণ ও হামের ভয় এখনো সারা দেশে রয়ে গেছে।
গত ৫ এপ্রিল টিকা দেওয়া শুরু হয় বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর, নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয় ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার। তবে টিকা দেওয়া হয়েছে ১০০ শতাংশের বেশি। ৫ বছরের বেশি বয়সি কিছু শিশু টিকা পেয়েছে বলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানান।
"








































