মো. শাহ আলম, খুলনা

  ১৩ অক্টোবর, ২০২১

খুলনায় প্রতি বছর ভাঙন ঠেকাতে বিপুল অর্থ জলে

স্থায়ী সমাধান ছাড়া শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোচন

স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করে তৎক্ষণিক সংকটে খুলনায় ভাঙনের কবল থেকে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের রক্ষা করতে প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ অর্থ পানিতে ফেলতে হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। সংকট কেটে যাওয়ার পর পরের বছর আবারও একইভাবে অর্থ পানিতে ফেলতে হয়। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব, আত্রাই, আঠারোবাকী ও মজুদখালী চার নদীবেষ্টিত খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সদর, সেনহাটী এবং বারাকপুর ইউনিয়নের অবস্থান। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিন ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে ভাঙন দেখা দেয়।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রতি বছর এসব ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষাস্বরূপ অস্থায়ীভাবে বালির বস্তা, জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে সাময়িক ভাঙন রোধ করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। এ বাবদ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে দিঘলিয়া উপজেলার ভাঙন কবলিত ২টি পয়েন্টে প্রায় ৪০ লাখ টাকার বালিভর্তি বস্তা এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়। আবার চলতি অর্থবছর মোমিনপুর, আমবাড়িয়া, চন্দনীমহল, হাজীগ্রাম, দেয়াড়া ৫নং ওয়ার্ডে লিটন চৌধুরীর গোডাউনের সামনে এবং নগরঘাট খেয়াঘাট সংলগ্ন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পাট গোডাউনের সামনে ভাঙনকবলিত নদীর পাড় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় সোয়া কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। এর মধ্যে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পাট গোডাউন পয়েন্টেই ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার ৩৪১ বালুভর্তি জিও (সিনথেটিক) ব্যাগের ডাম্পি কাজ চলমান রয়েছে।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘দিঘলিয়া উপজেলার মোমিনপুরের আতাই নদীর অতি ভাঙন কবলিত এলাকার ৩০০ মিটার এবং বটিয়াঘাটার কচুবুনিয়ার অতি ভাঙন কবলিত এলাকার ২৫২ মিটার স্থায়ীভাবে অত্যাধুনিকভাবে (ডিআরএমইপি) বাঁধ নির্মাণের জন্য জাইকার কাছে ১১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জাইকার প্রতিনিধি দল মোমিনপুরে আত্রাই নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।’

তিনি জানান, খুলনা শহরের কাস্টমঘাট, দৌলতপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন ভাঙনকবলিত এলাকাসহ অন্যান্য ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির নাম ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচাল অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (সিএসএডব্লিউএমপি)। প্রজেক্টের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে প্রস্তাবনাগুলো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যাবে। এরপর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের পর একনেকে পাস হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রজেক্টগুলো পাস হলে খুলনা শহর এবং পাশের ভাঙনকবলিত এলাকার স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হবে। আর এ বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান হবে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক বাঁধের ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এ ধরনের কাজে প্রতি বছর সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হচ্ছে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে এসব কাজ বিনা টেন্ডারে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে করা হয়। যার কারণে কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close