শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

  ১০ মে, ২০২১

ফেরিতে পদ্মা পেরিয়েও দুর্ভোগ

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে সীমিত আকারে ফেরি চালু থাকায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল থেমে নেই। রাজধানী ঢাকা থেকে আসা দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রী শিমুলিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে উঠতে পারলেও শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে নেমে পড়ছেন দুর্ভোগে। ঘাট এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বাড়ি পৌঁছানোর জন্য গণপরিবহন নেই। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় তাদের বাড়ি যেতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পরিবহনে এবং তাতে গুনতে হচ্ছে গলাকাটা ভাড়া। তারপরও মহামারি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে তারা ফিরছেন বাড়ি।

সরেজমিন বাংলাবাজার ঘাটে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ফরিদপুর ও শাহপরাণ নামে দুটি ফেরি আসে ঘাটে। ফেরি দুটিতে ছিল প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রী। যেখানে বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক পরা ছিল না। সামাজিক দূরত্ব বিধি ছিল পুরোই উপেক্ষিত।

------
ঘাট সূত্র জানায়, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পদ্মা পার হয়ে আসা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন বাংলাবাজার ঘাটে এসে। বাস বন্ধ থাকলেও মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল রয়েছে ঘাটে। তবে তাতে ভাড়া মাত্রাতিরিক্ত। ঘাট এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোতে বরিশালে আটজন করে যাত্রী নিচ্ছে। তাতে জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছে ৮০০ টাকা। অন্যদিকে মোটরসাইকেলে দুজন উঠিয়ে ফরিদপুর যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা, খুলনা যাচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং গোপালগঞ্জ যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে। কোনো কোনো মোটরসাইকেল চারজন করে চড়তেও দেখা যাচ্ছে। তবে মাহিন্দ্রা গাড়িতেও বরিশাল যাচ্ছে জনপ্রতি ৬০০ টাকা আর গোপালগঞ্জ যাচ্ছে ৮০০ টাকা করে।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে আসা বরিশালগামী যাত্রী ফরিদ আহম্মেদ (৪৫) বলেন, ঢাকায় কাজ নেই, তাই বাড়ি যাচ্ছি। ঘাটে তিন ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে অনেক কষ্টে ফেরিতে উঠতে পেরেছি। এত মানুষের চাপ, শরীর চ্যাপটা হয়ে গেছে। খুব কষ্ট হয়েছে এই পর্যন্ত আসতে। ফেরিতে মানুষের গাদাগাদি ও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই বাড়ি যেতে হচ্ছে।

খুলনাগামী যাত্রী মনির হোসেন (৩৩) বলেন, সামনে ঈদ তাই বাড়ি যাচ্ছি। তবে এতো টাকা ভাড়া জীবনেও দেখিনি। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা খুলনাগামী যাত্রী হেনা বেগম বলেন, দুই ঘণ্টা ফেরিঘাটে অপেক্ষায় ছিলাম। পরে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ফেরিতে উঠার সময় পা ফসকে পড়ে যায়। এতে শরীরের আঘাত পেয়েছি। তারপরও নদী পার হতে পেরেছি। বাড়িতে তো যেতেই হবে।

এদিকে রাজধানীমুখী মানুষেরও ভিড় ছিল ঘাটে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বাংলাবাজার ঘাট থেকে ফেরি কুমিল্লা ও কুঞ্জলতা কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সসহ পাঁচ শতাধিক যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়ায় রওনা হয়। তবে দুপুর ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘাট এলাকায় প্রায় ১০ হাজার লোক এবং পাঁচ শতাধিক যানবাহন পারের অপেক্ষায় ছিল।

বাংলাবাজার ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক জামিল আহমেদ জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ফেরিতে উঠানো হয় না। তবে এদিক সেদিক দিয়ে মানুষ ফেরিতে উঠে পড়ে। তাদের কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close