কাজী আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম

  ১৭ জানুয়ারি, ২০২১

শেষমেশ নিলামে উঠছে ১১০০ টন পেঁয়াজ

বেশি দামে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পচতে বসেছে আমদানিকারকদের ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৫১৯ কেজি পেঁয়াজ। এই পেঁয়াজ কেউ এখন কিনতেও চাচ্ছে না। আবার নিয়ম অনুযায়ী, ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। কিন্তু কোনোটাই না হওয়ায় শেষ উপায় হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসকে বারবার পেঁয়াজ নিলামে তোলার জন্য তাগিদ দেয়। ফলে এই বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ তোলা হচ্ছে ই-অকশনের মাধ্যমে নিলামে। আগামী মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে তার পরদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত আগ্রহীরা চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওয়েবসাইটের ই-অকশন ক্যাটাগরিতে রেজিস্ট্রেশন করে ঘরে বসেও নিলামে অংশ নিতে পারবেন। এর আগে ডিসেম্বরে ৩০০ টন পেঁয়াজ নিলামে ডাকা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারত রপ্তানি বন্ধের পর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয় বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ। ব্যবসায়ীরা মিসর, হল্যান্ড, চীন, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেন। এই পেঁয়াজ বন্দরের ভেতরে ইয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে পড়ে আছে। অনেকগুলোও গজিয়েছে গাছও।

------
বন্দরের তথ্য মতে, ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার আগ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টন পেঁয়াজ খালাসের অপেক্ষায় ছিল। এ ছাড়া পাইপলাইনে জাহাজে আছে আরো পেঁয়াজ। অন্যদিকে স্থলপথে ভারত থেকে আসাও শুরু হয়। ফলে বিপুল লোকসানের মুখোমুখি ব্যবসায়ীরা বন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস করতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে পচনশীল এই পণ্য নিয়ে বিপাকে রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ অন্য দেশের চেয়ে দামে কম। চলতি মাসের শুরু দিকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করে। তা ছাড়া বন্দরে থেকে যাওয়া পেঁয়াজও খালাস করেনি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, নিলামে অংশগ্রহণকারী আজ রবিবার এবং সোমবার পণ্য পরিদর্শন করতে পারবেন। অনলাইনে সফলভাবে দরপত্র জমা দেওয়া প্রক্রিয়া শেষ হলে ই-মেইলের মাধ্যমে বিডারকে জানানো হবে। এরই মধ্যে ই-অকশন উপলক্ষে কাস্টমসের ওয়েবসাইটে প্রতিটি লটের সংরক্ষিত মূল্য এবং পণ্যের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছে। সরকারি নিলাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কেএম করপোরেশন প্রধান কার্যালয়, ৩০৬, স্ট্যান্ড রোড, মাঝিরঘাট, চট্টগ্রাম থেকে এবং বন্দর স্টেডিয়ামের বিপরীতে কাস্টম অকশন শেড থেকে ক্যাটালগ সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ঢাকার দরদাতারা ৮০, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার ঠিকানা থেকেও ক্যাটালগ সংগ্রহ করতে পারবেন।

জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক নীতি) মো. মাসুদ সাদিক চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ই-অকশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ওইদিন ১৬টি লটে ফেব্রিক্স, রসুন, সোডা অ্যাশ, আয়রন পাইপ ও স্ক্র্যাপ জাতীয় ই-অকশনে দেওয়া হয়। সেই অকশনে ১৬ লটের মধ্যে আটটিতে ৩৮টি দরপত্র জমা পড়ে।

ই-অকশন বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সম্প্রতি মিসর, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড,পাকিস্তান এবং চীন থেকে পচনশীল পণ্য এসব পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আমরা দ্রুত সেগুলো ই-অকশনে দিয়ে দিচ্ছি।

প্রসঙ্গত, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তা ছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়।

 

 

"

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close