থেরাপি নিতে সিআরপিতে ওয়াহিদা

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে মিরপুর সিআরপিতে (পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র) নেওয়া হয়েছে। আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা। ওয়াহিদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রধান ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালের অধ্যাপক ডা. জাহেদ হোসেন ছাড়পত্র দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এই কথা বলেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তার শারীরিক পরিস্থিতি এখন ভালো। শক্তি অনেকটাই ফিরে এসেছে। শিগগিরই তিনি পুরো শক্তি ফিরে পাবেন।

ডা. জাহেদ বলেন, এক মাস আগে আমাদের এই হাসপাতালে এসেছিলেন ওয়াহিদা। তখন তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তিনি অস্ত্রোপচারে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে অপারেশনের উপযোগী অবস্থায় নিয়ে আসি। তখন তার জ্ঞানের মাত্রা ঠিক ছিল না। পরে স্থিতিশীল অবস্থায় আসেন। প্রথমদিকে শরীরের ডান পাশ একদম নাড়াতে পারছিলেন না। তবে এক সপ্তাহ পর থেকে ডান হাত ও পরে ডান পা নাড়াতে শুরু করেন। গত তিন সপ্তাহে তিনি শরীরের ডান অংশ পুরোটাই নাড়াতে পারছেন ও হাঁটতে পারছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওয়াহিদার অস্ত্রোপচার শতভাগ সফল হয়েছে। তার শারীরিক পরিস্থিতি এখন ভালো। শক্তি ফিরে এসেছে। সামান্য বাকি আছে। সেজন্য সিআরপিতে রেফার করেছি। সেখানে ফিজিওথেরাপি নিলে আশা করি বাকি বলটুকুও ফিরে আসবে। আগামী দুই-এক সপ্তাহে ফুল রিকভার হয়ে যাবেন। ওয়াহিদার শরীরে কোনো ডিজ্যাবিলিটি নেই, থাকবেও না। এক মাস পরে তাকে ফলোআপে আসতে বলা হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।

নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, তিনি এক মাসের মধ্যেই হেঁটে হাসপাতাল থেকে যেতে পারলেন। এটা নিউরোসার্জারিতে বিস্ময়কর না হলেও তার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমরা তাকে যে অবস্থায় পেয়েছিলাম, সে অবস্থা থেকে উত্তরণ এত তাড়াতাড়ি ঘটবে তা অপারেশনের পরে বুঝতে পারছিলাম। আমাদের হাসপাতালের প্রতি সবার আস্থা আছে বলেই তার চিকিৎসা আমরা এখানে করতে পেরেছি। নইলে দেশের বাইরে করা হতো। আমরা আমাদের হাসপাতালে এর চেয়ে বড় বড় অপারেশন করি। আপনারাও আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন।

গত ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঘোরাঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে ওয়াহিদা খানমের ওপর ভারী ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ (৭০) জখম হন। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

ঘটনার পরদিন ওয়াহিদা ও তার বাবাকে প্রথমে রংপুরের একটি বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুরে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে তাদের ঢাকায় আনা হয়। তার বাবা ওমর আলী শেখ নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসার সুবিধার জন্য ওয়াহিদা ও তার স্বামীকে ঢাকায় বদলি করে আনা হয়েছে।

 

 

"