reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নিত্যপণ্যের সংকট নেই দাম নিয়ন্ত্রণে থাকুক

মুসলমানের সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান শুরু আর সপ্তাহ দু-এক পরেই। এরই মধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। আমাদের দেশে রোজাকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়, নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। এতে ভোগান্তিতে পড়েন রোজাদাররা।

বলা বাহুল্য, উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষে, বিশেষত ধর্মীয় প্রধান কোনো উৎসবের সময়ে বিভিন্ন ইসলামি রাষ্ট্রসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই পণ্যমূল্য কমে যায়। এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ নতুন-পুরোনো পোশাক-আশাক ও উৎসবসামগ্রী বিশেষ ছাড়ে বিক্রি করা হয়। ফলে নিম্ন এবং নিম্নমধ্যবিত্তরা অনেক বড় ব্র্যান্ডের দোকানপাট থেকে জিনিসপত্র কেনার সুযোগ পেয়ে থাকেন। যদিও পণ্যের গুণ-মান ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে কোনো হেরফের ঘটে না। কিন্তু বাংলাদেশ এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এখানে নিত্যপণ্যের দামও উৎসবকে কেন্দ্র করে বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে। কখনো কখনো তা দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষ উপলক্ষে কেন নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়- তা নিয়ে রয়েছে পরস্পরবিরোধী প্রধানত দুই রকমের অভিমত। ব্যবসায়ীরা বলে থাকেন, খরচ বৃদ্ধি ও চাহিদা জোগান তত্ত্বের স্বাভাবিক নিয়মেই এ সময় মূল্য বেড়ে যায়। অন্যদিকে নীতিনির্ধারক ও সাধারণ জনগণের বক্তব্য হলো, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা লাভের মানসিকতাই মূল্যবৃদ্ধির বড় কারণ। কারণ যেটাই হোক না কেন, রমজান সামনে রেখে বাজারের অগ্নিমূল্যের উত্তাপ কয়েক সপ্তাহ ধরে মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে এবার অনেক আগে থেকেই পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। সম্প্রতি চাল, চিনি, ভোজ্য তেল ও খেজুরের শুল্ক-কর কমানো হয়েছে। এর ফলে বাজারে ওই পণ্যগুলোর দাম কমবে বলে আশা করা হয়। অথচ এক সপ্তাহ পরও ওইসব পণ্যের দাম তো কমেইনি, বরং বাড়তির দিকে। গত জানুয়ারির শেষ দিকে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তমন্ত্রণালয়ের এক জরুরি সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘রমজান ঘিরে পণ্যের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এরপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রমজানে কোনো পণ্যের সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভারতসহ অন্য পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রাখতে পারব। চালের কোনো সংকট নেই। আমাদের প্রায় ১৭ লাখ টনের ওপর চালের মজুদ রয়েছে।’ সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানি সফর নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না। রমজানে কোনো কিছুর (অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের) অভাব হবে না। এরই মধ্যে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো সমস্যা হবে না।’

নিত্যপণ্যের সংকট না থাকা সত্ত্বেও মূল্য বেড়ে যাওয়া দুঃখজনক। রোজা শুরু হতে আর বেশি বাকি নেই। এখনই পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রোজাদারদের দুর্ভোগ বাড়বে। তাই নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সংশ্লিষ্টদের আরো কঠোর হতে হবে। প্রয়োজনে বাজারগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close