প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ২৬ নভেম্বর, ২০২১

শেষ হচ্ছে মারকেল যুগ

জার্মানির ক্ষমতায় আসছে নতুন জোট

জার্মানিতে তিন দলীয় একটি নতুন জোট সরকার ক্ষমতাসীন হতে যাচ্ছে আর এর মাধ্যমে দেশটিতে অ্যাঙ্গেলা মারকেলের যুগের অবসান হচ্ছে। গত বুধবার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা ওলাফ শোলজ নতুন শাসক জোট গঠন করতে একটি চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। দেশটির ফেডারেল স্তরে এই প্রথম গ্রিন্স, লিবাটারিয়ান ফ্রি ডেমোক্র্যাটস (এফডিপি) ও শোলজের মধ্য-বাম সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টি (এসপিডি) জোট গঠন করল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জার্মানির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এই তিন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তারা প্রত্যেকেই ১৭৭ পাতার জোট চুক্তি অনুমোদন করেছে। আগামী মাসের প্রথম দিকেই নতুন সরকার শপথ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে, আর এর মধ্য দিয়ে চ্যান্সেলর মারকেলের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল সরকারের ১৬ বছরের শাসনের অবসান হবে। দেশটির নতুন চ্যান্সেলর হবেন শোলজ। দলগুলোর প্রতিনিধিত্বশীল রংগুলোর নাম অনুযায়ী নতুন জোটটিকে ‘ট্র্যাফিক লাইট’ জোট বলা হচ্ছে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলাই এ জোটের এ লক্ষ্য বলে জানা গেছে। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন যুগের সূচনা করতে চায় তারা। এফডিপি ও গ্রিন্স নেতাদের পাশে নিয়ে বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে শোলজ বলেন, ‘যখন ১৯২৪ সালে নগরীর পস্টডামা প্লাজায় প্রথম ট্র্যাফিক লাইন বসানো হল, তখন অনেকেই জিজ্ঞাসা করেছিল, এটি কাজ করবে কি না। এখন সবাই যেন নিরাপদে ও সহজে সামনে এগিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করতে সবকিছু পরিষ্কারভাবে নিয়ন্ত্রণ করা ও সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার বিষয় যখন আসে তখন ট্র্যাফিক লাইটই অপরিহার্য হয়ে ওঠে। চ্যান্সেলর হিসেবে আমার আকাক্সক্ষা হলো, এই ট্র্যাফিক লাইট জোটও জার্মানির জন্য একই রকম যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।’

চ্যান্সেলর হিসেবে মারকেল যে সাফল্যের ধারা রেখে যাচ্ছেন তাকে ধরে রাখা যে কারো জন্যই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিনি একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে জার্মানি ও ইউরোপকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের মুখেও উদারনৈতিক গণতন্ত্রের একজন পথপ্রদর্শকে পরিণত হয়েছেন।

সমালোচকরা বলছেন, তিনি সমস্যার সমাধান করার পরিবর্তে সেগুলো সামাল দিয়েছেন আর উত্তরাধিকারীর জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বহু ক্ষেত্র রেখে যাচ্ছেন। ৬৩ বছর বয়সি শোলজ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক। তিনি মারকেলে নেতৃত্বাধীন বিদায়ী এসপিডি ও রক্ষণশীলদের ‘বৃহৎ জোট’ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইকেই অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানিয়েছেন শোলজ। তবে তার ‘ট্র্যাফিক লাইট’ জোট বেশ কিছু মধ্যবর্তী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও আগ্রহী। তিন দলের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ, দূষণকারী কয়লা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা ও সর্বনিম্ন মজুরি বাড়াতে চায়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close