বদরুল আলম মজুমদার

  ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

মান ভাঙলো মিন্টুর, আসছেন স্থায়ী কমিটিতে!

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। সে পদটি সরাসরি রাজনৈতিক না হলেও এবার ভাইস চেয়ারম্যান পদ পেয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে এটি পদায়ন না অবনতি। তার প্রত্যাশা ছিল, এমনকি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ এ রাজনীতিবিদ দলের স্থায়ী কমিটিতে আসছেন—এমনটা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ঘোষিত কমিটিতে তার নাম আসে ভাইস চেয়ারম্যানের পদে। এতে অনেকটা নাখোশ ছিলেন তিনি। কমিটি ঘোষণার পর যাননি চেয়ারপারসন অফিসে। এ নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয় তার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে। এখনো স্থায়ী কমিটির দুটি পদ খালি আছে।

শোনা যাচ্ছে, দুজনের মধ্যে তাকে নেওয়া হবে সে পদে। এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি সক্রিয় হয়েছেন রাজনীতিতে। যদিও তিনি সেটা স্বীকার করেননি। বলেন, ‘পদের জন্য রাজনীতি করেন না। বিএনপিতে আছেন। থাকবেন। এজন্য কোনো পদ পরিচয় লাগে না। এফবিসিসিআইয়ের দুই দুবারের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। পদ-পদবি আমার জন্য মুখ্য নয়। বিএনপির হয়ে কাজ করতে চাই। সেটা করতে পারলেই আমি খুশি।’ এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমি বিএনপিতে আসছি ২০০১ সালে। দলটিতে আমার বয়স এখন মাত্র ১৫ বছর। বিএনপিতে অনেক নেতা আছেন তিন যুগ চার যুগ রাজনীতি করছেন, এখনো দলের স্থায়ী কমিটিতে আসতে পারেননি। পদ নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বিএনপিতে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগ থেকেই। কথা ছিল ঢাকার মেয়র নির্বাচন করার। কিন্তু সে সময় পারেননি সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে। যার ফলে অপেক্ষা করতে হয় তাকে। সর্বশেষ ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগে ভাগ করে সরকার। দেশের রাজনীতিও তত দিনে অনেক পাল্টে যায়। সর্বশেষ সেই বিভক্ত সিটির উত্তরে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাকে। কিন্তু তার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যায়, বিভক্ত ঢাকার মেয়র হতে চান না তিনি। অভিযোগ উঠে, এজন্যই তিনি যাননি সিটি নির্বাচনে। রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছেন সে ক্ষেত্রে। রাজনীতিতে নিয়ে এসেছেন বড় ছেলে তাবিথ আউয়ালকে। সেই সঙ্গে ছেলেকে নিয়ে আসেন নিজের স্বপ্নের মেয়র পদে।

বিএনপি এবং নিজের রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় প্রতিবেদকের সঙ্গে। বিএনপির রাজনীতির দুঃসময় যাচ্ছে কিনা- এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির জন্য কোনো দুঃসময় দেখি না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের জন্য দুঃসময়। বাংলাদেশে এ রকম একটা দুঃসময় আসছিল ১৯৭৪-এ। তখন বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকারকে হরণ করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। অন্য দলগুলোর রাজনীতি করার সুযোগ রহিত করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। সেই একই অবস্থার মধ্য দিয়ে বর্তমানে যাচ্ছে দেশ। দেশের পত্রপত্রিকায় যে হারে বিএনপির দুঃসময়, দুর্দিন বলা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তবে দুর্দিন বা দুঃসময় যেটা আছে, এটা দেশের জন্য এবং দেশের রাজনীতির জন্য দুঃসময়। দেশের মানুষের জন্য দুঃসময়।’

দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিন্টু জানান, একটা সময় দেশে নির্বাচন হবে, দেশের মানুষ ভোটও দিতে পারবে, তাদের মতামতের ভিত্তিত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কে পাবে, তাও নির্ধারিত হবে। সেদিন বেশি দূরে নয়। সবাইকে মিলে সেই অবস্থাটা ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য কাজ করতে হবে। এবার আওয়ামী লীগ নিজেরা একটি নির্বাচন করে। যেটাকে নির্বাচন বলা যাবে না। আমরা কেন? পৃথিবীর কোনো দেশই এটাকে নির্বাচন বলে না। এমনকি প্রতিবেশী বড় দেশটি পর্যন্ত একে ভালোভাবে নেয়নি।

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা করেন, সেটা ঠিক আছে। সমালোচনা হতেই পাওে, কিন্তু সেটা কতটা যৌক্তিক। এটা সকলকে বিবেচনায় নিতে হবে। দলের কমিটি ও কাউন্সিল নিয়ে যে সমালোচনা হয়, তাও ঠিক নয়। কমিটি দেরিতে হওয়ার বিষয়ে আমি বলব, নানা রাজনৈতিক কারণে সেটা হয়ে উঠেনি। বিশেষ করে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা। তাছাড়া এত বড় একটি কমিটি করতে গেলে সময় তো লাগবেই। এতে নেতাদের রাজনীতি বিচার করতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান দেখতে হয়। মূলায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। সবকিছু মিলে ভালো একটি কমিটি হয়েছে বলে আমি মনে করি।

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে- এমন কথা বলা হচ্ছে। আমি মনে করি, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক। তবে এর কৃতিত্ব সরকারের নয়। ব্যবসায়ী ও প্রবাসীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। দেশে এখন অনেক বেশি ট্যাক্স আদায় হচ্ছে। আর উন্নয়ন বলতে যেটা হচ্ছে সেটা ধারাবাহিকতা মাত্র।

বিএনপিকে রাতের পার্টি বলছে সমালোচকরা- এমন কথার জবাবে চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ এ নেতা মনে করছেন, চেয়ারপারসন দিনের বেলায় বা বিকালে তাড়াতাড়ি অফিসে এলে দলের নেতারা বেশি সময় পাবেন, এটা ঠিক। আমি যতদূর দেখেছি, প্রায় ১০-১৫ বছর তিনি রাতের বেলায় অফিস করেন। আগে আসার একটা পজেটিভ ভ্যালু তো আছে, সেটা তো অস্বীকার করা যায় না। তবে আগে আসা, না আসাটা চেয়ারপারসনের নিজস্ব ব্যাপার। দলের যাবতীয় কাজ দিনের ১০টা থেকেই পার্টির পল্টন অফিস থেকে শুরু হয়। তাই সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি শুধু রাত নয়, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টার দল।

দলের বর্তমান কর্মকান্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, দলটি সাংগঠনিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মূল কারণ সরকারি দলের অত্যাচার-নির্যাতন। সে অবস্থা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে বিএনপি। এখন দলের পুনর্গঠনের কাজ চলছে। সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিগগিরই ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হবে। দুইভাবে বিভক্ত মহানগরকে শক্তিশালী রূপে দেখতে চান সারা দেশের নেতাকর্মীরা। তাদের সে চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে আমরা মহানগর কমিটির কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছি। যথাসময়েই এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বিএনপি,আবদুল আউয়াল মিন্টু,রাজনীতি,রাজধানী,এফবিসিসিআই
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist
Error!: SQLSTATE[42S02]: Base table or view not found: 1146 Table 'protidin_sangbad.news_hits_counter_2020_04_07' doesn't exist