৩৯ খাল উদ্ধার করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট চালু করা হবে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম (ছবি : মুঈদ খন্দকার)

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা শহরে ৩৯টি খাল রয়েছে। এই খালগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কার করা হবে। একইসঙ্গে এগুলোকে দূষণ মুক্ত করে হাতিরঝিলের মতো ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট চালু করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ঢাকার দুই মেয়রের সঙ্গে কথা হয়েছে। খালগুলোর দুই পাশে সাধারণ মানুষের চলাচল করার ব্যবস্থা করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে বিশ্বের সব জায়গা থেকে ঢাকা মহানগর দৃষ্টিনন্দন শহর হিসেবে রুপান্তরিত হবে।

বুধবার রাজধানীর গুলশান-২ এ বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় আয়োজিত সকল সিটি করপোরেশনের জন্য ভেকুম টাইপ রোড সুইপার ট্রাক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ‘গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ মাস (অক্টোবর ২০২০)’ উদ্বোধন করেন। 

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরকে যদি আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজাতে পারি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তুলতে পারি তাহলে দেশের মানুষকে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আর বিদেশে যেতে হবে না।

তিনি বলেন, আমরা গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবছর ঢাকাকে মশা মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছি। এই নগরীকে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন বলে অপবাদ দেওয়া হয়। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করলে এ অপবাদ থেকেও আমরা মুক্তি পাবো। 

দেশের মানুষ উন্নয়ন চায়। কিন্তু সে উন্নয়ন করতে গিয়ে যাতে জনজীবন অতিষ্ঠ না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানান মো. তাজুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়ন করতে রাস্তা কেটে দীর্ঘসময় ধরে ফেলে রাখা হয়। এতে করে ধুলোবালি জমে পরিবেশ নষ্ট হয়। এগুলো বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ  দিয়েছেন মন্ত্রী।

যারা ঢাকা শহরের আশপাশে নদ-নদী, খাল এবং পার্ক ও ফুটপাতসহ অবৈধভাবে সরকারি সম্পত্তি দখল করে আছেন তাদের সব দ্রুত ছেড়ে দিতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি জায়াগা অবৈধভাবে দখল করে রাখার অধিকার কারও নেই।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি দেশ ও মানুষের উন্নয়ন করার জন্য, দুর্নীতি করার জন্য নয়। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।  ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা সকল প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন  তিনি। 

সিটি কর্পোরেশনগুলোকে সরবরাহ করা ভেকুম টাইপ রোড সুইপার ট্রাক গুলো শহরের অলি-গলিতে প্রবেশ করতে সক্ষম উল্লেখ করে মন্ত্রী এগুলোকে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ভিডিও কনফারেন্সে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় “গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ মাস (অক্টোবর ২০২০)” উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ খান। স্বাগত বক্তব্য এবং রক্ষণাবেক্ষণ মাসের কার্যক্রম সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণী উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ) শেখ মোহাম্মদ মহসিন। 

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মুজিববর্ষের অঙ্গিকার হিসেবে সড়ক সংস্কারকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বছরব্যাপী উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও গৌরবান্বিত মুজিব শতবর্ষে “মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, সড়ক হবে সংস্কার” এই স্লোগানের বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যে চলতি অর্থবছর এলজিইডি ’গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ মাস (অক্টোবর ২০২০)’ উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ মাসে সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে এলজিইডি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীদের সমন্বয়ে সড়ক সংস্কার ও শ্রম ঘণ্টা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে বছরব্যাপী কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২০২১ সালের মার্চ মাসে অনুরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এলজিইডি’র আওতাধীন মোট ১ লাখ ২৮ হাজার ৫২৮ কিলোমিটার সড়ক পাকা রয়েছে। তন্মধ্যে ৪২ হাজার ১৬৬ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ২২ হাজার ৪১৭ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক ও ৬৪ হাজার ১২৬ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এ কার্যক্রমে সারাদেশে প্রায় ৩৮ দশমিক ২৫ লাখ শ্রমদিবসের সৃষ্টি হয়েছে। এ কাজে বছরব্যাপী সম্পৃক্ত রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার অতি দরিদ্র ১০ হাজার ১৪৭ জন মহিলা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী ও ৬০১ জন সুপারভাইজার। তা ছাড়াও অন-পেভমেন্ট রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রয়েছে ৩২০ জন দক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক। অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ কার্যক্রম উক্ত অবকাঠামোর স্থায়িত্বকাল দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত রাখে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে সড়কের মানের দ্রুত অবনতি ঘটে, দুর্ঘটনার মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধিসহ যানবাহনের পরিচালনা খরচ বৃদ্ধি পায় এবং অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে সড়কসমূহে ব্যয়বহুল পুনঃনির্মাণ বা পুনর্বাসন প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। তাই গ্রামীণ সড়কে ক্ষয়-ক্ষতির হার কমিয়ে সড়ক ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ত করে সড়কের স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধি, সড়ক যোগাযোগ নিরাপদ করা, সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্টদের উক্ত কাজে অনুপ্রানিত ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে বছরব্যাপী সড়ক সংস্কার কাজ অব্যাহত রাখাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।