ফ্যাশনে বিলাসিতার চেয়ে আরামে ঝুঁকছে নারীরা

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫০ | আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫৭

অনলাইন ডেস্ক

ট্রেডিশনাল পোশাক শাড়ি ও সালোয়ার কামিজের ট্রেন্ড আর আগের মতো নেই। শাড়িটা হয়ে গেছে উত্সবের পোশাক। আগে আমরা স্কুলের কোনো শিক্ষিকাকে শাড়ি ছাড়া কল্পনাই করতে পারতাম না। এখন সেটার পরিবর্তন হয়েছে। টপস, ফতুয়া এখন বয়স্ক নারীরাও পরছে। আগে রঙিন শাড়ি-পোশাক বেশি বয়সীরা পরতো না। এখন সেই ধারাটাও বদলেছে। তার মতে, ফ্যাশন সব সময় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তনটা হয় ধীরে ধীরে। তাই সেটা হঠাৎ করে চোখেও পড়ে না। কয়েক বছর পরে গিয়ে হয়তো মনে হয়, বড় একটা পরিবর্তন ঘটেছে।

ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত শিশুরা পরিধান করতো ফ্রক আর হাফপ্যান্ট। কিশোরী মেয়েরা পরতো সালোয়ার-কামিজ সঙ্গে দোপাট্টা। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েরা পোশাক হিসেবে পরতো শাড়ি। তবে এ ধারা বদলাতে শুরু করে আশির দশকে। সেই পরিবর্তনটাই এখনও হচ্ছে ব্যাপকভাবে।

বর্তমানে নারীদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে ঘরে ও বাইরে। ফলে ১২ হাতের শাড়ি পরে দ্রুত চলাফেরা আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। আর দীর্ঘসময়ের ট্র্যাডিশনাল সারোয়ার-কামিজের মধ্যেও থাকতে চাইছে না তারা। সে কারণে ডিজাইনারাও এ যুগের কর্মব্যস্ত নারীদের কথা মাথায় রেখে ট্র্যাডিশনাল পোশাকের সঙ্গে ভারতীয় পোশাক বা পাশ্চাত্যের পোশাকের সংমিশ্রণে তৈরি করেছেন ফিউশনধর্মী সব পোশাক।

আজকাল মেয়েরা তাগা বা ওয়ানপিসগুলো পরতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ভার্সিটিতে যেতে ওয়ানপিস বা তাগাই পরতে ভালো লাগে। তা ছাড়া একটি পছন্দসই থ্রিপিস কিনতে সর্বনিম্ন আড়াই হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা লাগে, সেখানে একটা ওয়ানপিস কিনতে ১২শ থেকে ১৬শ টাকায় পাওয়া যায়। আর ওয়ান পিসগুলো ল্যাঙ্গিস, প্যান্ট বা প্লাজোর সঙ্গেও পরা যায়। আর এটা দেখতে ফ্যাশনেবল।

জানা যায়, আমাদের দেশে শাড়ির ব্যবহার আগের থেকে কমেছে। তবে উৎসবে নারীরা এখনো শাড়ি পরছেন। সালোয়ার কামিজের জায়গায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। যেমন কামিজটা হয়তো একটু ছোট হয়ে ফতুয়া কিংবা টপস বা সিঙ্গেল কামিজ হয়েছে। এখন মেয়েরা বাজেটের কথা চিন্তা করেই একটা পায়জামা বা প্যান্টের সঙ্গে কামিজ বা টপস পরছে, তেমনি ওড়না অনেক সিঙ্গেল কামিজের সঙ্গেও ব্যবহার করতে পারছে। তাই থ্রিপিসের ব্যবহার কিছুটা কমেছে।

ডিজিটাল দুনিয়ায় ফ্যাশনটা এখন হাতের মুঠোয়। ভারত-পাকিস্তান-ইউরোপে কি ধরনের ফ্যাশন চলছে সব ঘরে বসেই দেখা যায়। ফলে দ্রুতই বদলে যাচ্ছে ফ্যাশন জগত্টাও। এখন বিশ্বে ফ্লোরাল ফ্যাশন সবত্রই চলছে। মেয়েদের পোশাকেই পরিবর্তনটা বেশি আসছে।