আজ কি জ্বলবে নেইমার-আগুন?

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০১৮, ০৯:৪২ | আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৮, ১১:১৯

আমির হোসেন

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। আর উত্তর আমেরিকার মেক্সিকো। ভিন্ন মহাদেশের হলেও তাদের ফুটবল বৈরিতা অনেক পুরনো। সেই ১৯৫০ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে শুরু। এরপর ২০১৫ পর্যন্ত ৪০ বার মুখোমুখি হয়েছে দল দুইটি। তার মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ২৭টিতে। মেক্সিকো ১০টিতে। ৩টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে দল দুইটি। আগের চারবারের দেখায় তিনবারই বিজয়ী দলের নাম ছিল ব্রাজিল। একবার হয়েছিল ড্র (২০১৪)। বিশ্বকাপে সবশেষ তাদের দেখা হয়েছিল ২০১৪ তে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ব্রাজিল অবশ্য জালের নাগাল পায়নি মেক্সিকোর। মূলত গোলরক্ষক গুইলের্মো ওচোয়ার দৃঢ়তায় গোলশূন্য ড্র করেছিল মেক্সিকো। এবারও ওচোয়া আছেন মেক্সিকো দলে।

পুরনো শত্রু, চেনা প্রতিপক্ষ মেক্সিকোকে আবারো পেয়েছে ব্রাজিল। এবার অবশ্য দেখা হলো শেষ ষোলোতে। যেখানে একটি দলকে হারতেই হবে। পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষে কথা বললেও একটি নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলবে, যারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে গোলের খেলা ফুটবলে গোল বেশি পাবে তারাই দিনশেষে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়বে। এই ম্যাচে মেক্সিকো যদি হেরে যায় তাহলে টানা সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেবে তারা। মেক্সিকো সবশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল ১৯৮৬ সালে। সেবার বুলগেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। এরপর টানা ছয় বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে এলেও শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এবার কী তার ব্যত্যয় ঘটবে? নাকি একই ভাগ্যবরণ করে বিদায় নিতে হবে উত্তর আমেরিকার দেশটিকে। ব্রাজিলের বিপক্ষের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে মেক্সিকোর ৫৭তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। এতগুলো ম্যাচ খেলে একবারও শিরোপা জিততে পারেনি তারা।

এবার ব্রাজিলকে হারিয়ে ৩২ বছর পর কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে চায় মেক্সিকো। তারা ব্রাজিলের ভয়ে ভীত নয়। যেমনটা বলেছেন মেক্সিকোর অধিনায়ক আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, ‘আমরা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতাম তাহলে সুইজারল্যান্ডকে পেতাম। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা জিতলে মানুষ বলতো সুইজারল্যান্ড দুর্বল দল বলে জিতেছি। প্রতিপক্ষ হিসেবে আমরা ব্রাজিলকে পেয়েছি। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন তারা। তাদের বিপক্ষের ম্যাচ নিয়ে আমরা খুবই উদ্দীপ্ত। এটা আমাদের জন্য একটা সুযোগও। তাদের বিপক্ষে ভালো ফুটবল খেলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মাঠে যেকোনো কিছু হতে পারে।’

ব্রাজিল অবশ্য কখনোই উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কোনো দলের কাছে বিশ্বকাপে হারেনি। সবশেষ ১৯৯০ বিশ্বকাপে সেলেকাওরা দক্ষিণ আমেরিকার দল আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছিল। বাকি ছয়বার তারা হেরেছে ইউরোপের দলের কাছে। ১৯৯০ সালেই কেবল ব্রাজিল শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল। এরপর প্রত্যেক বিশ্বকাপেই তারা শেষ ষোলোর গন্ডি পেরিয়েছে।

সার্বিয়ার বিপক্ষের ম্যাচে পিঠের সমস্যা নিয়ে মাঠ ছাড়া মার্সেলো সেরে উঠেছেন। তাকে এই ম্যাচে নামাতে পারে ব্রাজিল। ইনজুরিতে থাকা রাইট-ব্যাক দানিলোও সেরে উঠেছেন। তিনি খেলার জন্য প্রস্তুত। আর উইঙ্গার ডগলাস কস্তাও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালোভাবে সেরে উঠছেন। তার অবশ্য এই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা কম। ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে তিনি খেলতে পারবেন।

এদিকে মেক্সিকোর ইনজুরি সমস্যা না থাকলেও নিষেধাজ্ঞার সমস্যা রয়েছে। তাদের অন্যতম সেরা সেন্টার ব্যাক হেক্টর মোরেনো দুইটি হলুদ কার্ড দেখে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন। তিনি ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। তার পরিবর্তে এই ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হতে পারে হুগো আয়ালাকে। জার্মানির বিপক্ষে খেলার পর তিনি আর একাদশে সুযোগ পাননি।

ম্যাচ ফ্যাক্ট :

* ব্রাজিলের হয়ে ৮৮ ম্যাচে মাঠে নেমে ৯০ গোলে অবদান রেখেছেন নেইমার। নিজে করেছেন ৫৬টি গোল। আর অ্যাসিস্ট করেছেন ৩৪টি গোলে।

* এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে মেক্সিকো-ব্রাজিল। আগের চারবারের দেখায় ব্রাজিল জিতেছে ৩ বার। ড্র হয়েছে একবার। তিন জয়ে ব্রাজিল করেছে ১১ গোল। মেক্সিকো ০।

* এ নিয়ে বিশ্বকাপে ৫৭তম ম্যাচ খেলবে মেক্সিকো। এত ম্যাচ খেলেও এখনো শিরোপা জিততে পারেনি তারা।

* মেক্সিকো সবশেষ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে। আজ ব্রাজিলের কাছে হেরে গেলে টানা সপ্তমবারের মতো শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেবে তারা।

পিডিএসও/হেলাল