সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

  ১৪ অক্টোবর, ২০২১

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পানিফলের চাষ

সাতক্ষীরায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পানিফলের চাষ। জেলার জলাবদ্ধ পতিত জমির সর্বত্রই এখন চাষ হচ্ছে এ ফলের। খেতে বেশ সুস্বাদু ও কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এ চাষ এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে জেলার বেকারদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। সাতক্ষীরায় উৎপাদিত পানিফল এখন জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে ১২০ হেক্টর জমিতে পানিফলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ২১ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ২১ হেক্টর, তালা উপজেলায় দুই হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ২৩ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৫০ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় দুই হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় এক হেক্টর জমি রয়েছে। গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসুমে পাঁচ হেক্টর জমিতে পানিফল চাষ বেড়েছে। জেলায় ১৬ শ জন কৃষক পানিফলের চাষাবাদ করছেন।

সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। আর এই জলাবদ্ধ জমিতে যখন অন্য ফসল চাষাবাদ করা যায়না তখনই কৃষকরা এই জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষ করে সফল হয়েছেন। প্রতি বছর আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস থেকে এই পানিফল চাষাবাদের কাজ শুরু হয়। আর আশ্বিন থেকে শুরু হয়ে মাঘ মাস পর্যন্ত পানিফল বিক্রি হয়। পানিফল কচি অবস্থায় লাল, পরে সবুজ এবং পরিপক্ক হলে কালো রং ধারণ করে। ফলটির পুরু নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় হৃৎপিন্ডাকার বা ত্রিভুজাকৃতির নরম সাদা শাঁস। কাঁচা ফলের নরম শাঁস খেতে বেশ সুস্বাদু। পানিফল কাঁচা খাওয়া হয়, তবে সিদ্ধ করেও খাওয়া যায়।

পানিফল চাষি দক্ষিণ সখিপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন জানান, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে পানিফল চাষ করছেন। এবছর ১৫ বিঘা জমিতে এ ফল চাষ করেছেন। ১৩/১৪ দিন পর পর ফল উত্তোলন করেন তিনি। বিঘা প্রতি ২০/২৫ মন ফল পাচ্ছেন, প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করে লাভবানও হচ্ছেন।

কলারোয়া উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের পানিফল চাষি আব্দুল আজিজ গাজী ও ঝিকরা গ্রামের গোলাম মোস্তফা জানান, প্রতিবছর এলাকায় জলাবদ্ধ জমি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা পানি ফল চাষ করেছেন। তারা বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে চাষ করতে আমাদের খরচ হয় মাত্র ৬/৭ হাজার টাকা এবং প্রায় ২০ হাজার টাকার পানি ফল বিক্রি করে থাকি। তাছাড়া এ চাষে অনেকের কর্মস্থানও হয়েছে। 

দেবহাটার সখিপুর ও ডেল্টা মোড় এলাকার খুচরা পানিফল ব্যবসায়ী জামাল উদ্দীন ও আনছার আলী জানান, বর্তমানে ৩০ টাকা দরে পানিফল বিক্রি করছেন। প্রতি দিন তারা ২০ থেকে ৩০ কেজি ফল বিক্রি  করে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লাভ করেন।

পাইকারি পানি ফল ব্যবসায়ী দেবহাটার কামটা গ্রামের বাবু সরদার জানান, চাষের মৌসুম আসার আগে তিনি অর্ধ শতাধিক চাষির মাঝে অর্থ বিনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ফলন আসার পরে বাজার দর অনুযায়ী উৎপাদিত ফল কিনেন। প্রতিদিন তিনি ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, চিটাগাং, সিলেট, রাজশাহী, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ফল রপ্তানি করেন।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে এ ফলটিকে পানি ফল বা শিংড়া বললেও বৈজ্ঞানিক নাম ‘বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। লতার মত গাছটি ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পানির নিচে মাটিতে এর শেকড় থাকলেও পানির উপরে ভেসে থাকে পাতাগুলো। ফলগুলোতে শিং-এর মত কাঁটা থাকে বলে এর নামকরণ হয়েছে শিংড়া।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পানিফল,সাতক্ষীরা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close