লালমনিরহাট প্রতিনিধি

  ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সংস্কার অভাবে ধ্বংস কোটি টাকার গুচ্ছগ্রাম!

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ভারতীয় ভু-খণ্ড বেষ্টিত বহুল আলোচিত দহগ্রাম ইউনিয়নে দেড়কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সরকারি গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো তদারকি আর সংস্কারের অভাবে এখন বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। নেই যোগাযোগের রাস্তা, ধসে পড়েছে ঘরের মাটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণের পরের বছর থেকে ১৩০টি ঘরের ৮০টি ঘর ফাঁকা পড়ে থাকার ৪বছর পেরিয়ে গেছে। বাকি ৫০টি ঘরে লোকজন বসবাস করলেও তাদের নানামূখী সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। বন্যার পানিতে অধিকাংশ ঘর থেকে মাটি সরে গেছে। এছাড়া গুচ্ছগ্রামটির সাথে যোগাযেগের একমাত্র রাস্তাটিও ধসে গেছে। পাশাপাশি ধসে গেছে সেতুর সংযোগ সড়ক। দীর্ঘদিন মেরামত না করায় গুচ্ছগ্রামটি বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। ফলে তদারকি আর সংস্কারের অভাবে সরকারের দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ঘরগুলো এখন কোন কাজেই আসছে না।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ৫বছর আগে ওই গুচ্ছগ্রামটি নির্মাণে মাটি ভরাট করতে ব্যয় করা হয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন চাল। ঘর নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। মোট ১৩০টি ভূমিহীন পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া হয় এসব ঘর। 

গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারীদের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে এখন ঘরগুলো আর ব্যবহার করা যায় না। বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ঘরগুলো থেকে বালু মাটি ধসে গেছে। 

গুচ্ছগ্রামের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের যাতায়াতের একমাত্র সড়ক ও সেতুর সংযোগ সড়ক বন্যার পানিতে ধসে যাওয়ায় অনেক কষ্ট করে বসবাস করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে একাধিকবার আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাই রিক্সা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালিয়ে যারা জীনযাপন করেন তারা গুচ্ছগ্রামের ঘর ফেলে অন্যত্রে বসবাস করছেন। ধসে যাওয়ায় সেতুর সংযোগ সড়কে তারা নিজেরাই বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন বলেও তিনি জানান। 

গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী ফাতেমা বেগম বলেন, ঘর থেকে বালু ধসে গেছে তাই তারা ঘরে বসবাস করতে পারছেন না। গাইডওয়াল থাকলে ঘর থেকে মাটি ধসে যেতো না। বর্তমানে যারা বসবাস করছেন তারাও ঘর ছেড়ে অন্যত্রে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী শামসুল ইসলাম জানান, ঘরগুলো আর রাস্তা মেরামত হলে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম। তিনি আরো বলেন, বন্যায় ঘরের মাটি ও রাস্তা ধসে যাওয়ায় তিনমাস বসবাস করার পর ঘর ছেড়ে দিয়ে এখন অন্যত্রে বসবাস করছেন।  

তবে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জানান, গুচ্ছগ্রামটি তিস্তা নদীর পাড়ে। এ কারণে প্রতিবছর বন্যার সময় গ্রামটি প্লাবিত হয়। বন্যায় ‘রাস্তা ও সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যাওয়ায় গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারীরা সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। এ প্রকল্পে গাইডওয়াল ধরা ছিলো না। বাঁশের পাইলিং করে জিও-ব্যাগ ফেলে মাটি ধসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে একটি প্রোটেকশন ওয়ার্ক করেছিলেন বলেও তিনি জানান।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) উত্তম কুমার নন্দীর জানান, অনেকদিন আগের কাজ বন্যায় ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুর রহমান বলেন, তিনি উপজেলায় নতুন যোগদান করেই গুচ্ছ গ্রামের মানুষজনের সাথে মতবিনিময় করেছেন। শিগগিরই দহগ্রামের সরকারি ওই গুচ্ছগ্রামে যাতায়াতের সড়ক ও সেতু মেরামত করা হবে। ঘরগুলো বসবাসের উপযুক্ত করতে তিনি নিজেই তদারকি করছেন বলে জানান। 

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
লালমনিরহাট,পাটগ্রাম,গুচ্ছগ্রাম
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close