নওগাঁ প্রতিনিধি

  ০৩ আগস্ট, ২০২১

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে আটক (ভিডিও)

সরকারি বিভিন্ন সংস্থা পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনীর অফিসার, ডিসিসহ নানা পরিচয়দানকারী কামরুল হাসান ওরফে সাদ্দাম (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে  নওগাঁ সদর থানা পুলিশ।

সোমবার রাত ৮টার দিকে শহরের মল্লিকা ইন হোটেল থেকে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

সাদ্দাম যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার আটুলিয়া গ্রামের কাওসার আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া মঙ্গলবার দুপুরে তার অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন - অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম মামুন খান চিশতী ও গাজিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সাবিনা ইয়াসমিন, সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা।

পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, আটক কামরুল হাসান ওরফে সাদ্দাম হোসেন একজন শীর্ষ প্রতারক। দামি গাড়ি নিয়ে চলাচল করতো এবং ফাইভ স্টার হোটেলে থাকতো। তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে পুলিশ সুপার, ডিবি, এমবিবিএস ডাক্তার, সেনাবাহিনীর অফিসার, ডিসি, বড় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে প্রতারণা করে আসছিলেন। একাধিক নামে ফেসবুক আইডি খুলে মেয়েদের কাছে নিজেকে বিভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। পরে দৈহিক সম্পর্ক করেন। এসময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাক মেইল এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করত।

তিনি আরও বলেন, জেলার এক উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মেঝো ছেলে মারা যাওয়ার পর তিনি মানুসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাদ্দাম নিজেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দিয়ে ওই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে মোবাইলে মা - ছেলের সম্পর্ক গড়ে তুলে তার কাছে যাতায়াত শুরু করেন। তাকে চেয়ারম্যানের টিকিট করে দেয়া এবং বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে গত বছরের নভেম্বরে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর থেকে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে ও মোবাইল বন্ধ রাখে। ভাইস চেয়ারম্যান জানতে পারেন সোমবার সাদ্দাম নওগাঁ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছে। এরপর তিনি পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে সদর থানা পুলিশ সাদ্দামকে আটক করে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রায় এক বছর পূর্বে শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে সাদ্দাম। এরপর দৈহিক সম্পর্ক করে গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। তাকে বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা ও দুইটি ফাঁকা চেক হাতিয়ে নেয়। এরপর মেয়েটির দুই তলা বিশিষ্ট বাড়ির দিকে নজর পড়ে সাদ্দামের। ফাঁকা চেক ও গোপনে ভিডিও ধারণ করে ভিডিও দেখিয়ে মেয়েকে ব্ল্যাক মেইলে করে ১ আগস্ট তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেন।

পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিজ এলাকায় সাদ্দামের দুই স্ত্রীর সন্ধ্যান পায়। এছাড়া তার গ্রামের এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে পোল্যান্ড পাঠানোর নাম করে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবসার সাথেও জড়িত। তার বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে ১০দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

ভিডিওতে দেখুন :

পিডিএসও/ জিজাক

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
প্রতারণা,প্রতারক
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close