নিত্যপণ্য প্রতিটির দামই বাড়ছে

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১৯ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০৬

হাসান ইমন

দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও প্রয়োজনের তাগিদে মানুষের চলাচল এবং জীবনযাত্রা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবে এ অবস্থায় বেড়ে চলছে নিত্যপণ্যের দাম। এক মাসের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই বেড়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২৫ ও ৩৫ টাকা বেড়েছে। একই অবস্থা রসুন, আদা, চিনিসহ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পণ্যের। আর ৫০ টাকার (প্রতি কেজি) নিচে তো পাওয়াই যায় না কোনো শাকসবজি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ।

গতকাল বৃহস্পতিবার রামপুরা ও মহাখালী বাজার ঘুরে এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০-৭৫ টাকা, এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছে ৩৫-৪০ টাকা। এই হিসাবে প্রায় শতভাগ বেড়েছে পণ্যটির দাম। আর আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬০ টাকা, এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি, এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছে ৯০-৯৫ টাকা। প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২৪০ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা। প্রতি কেজি দারুচিনি মাসের ব্যবধানে ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা। প্রতি কেজি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল বিক্রি হয়েছে ৪৮-৫০ টাকা, যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৪২-৪৪ টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডাল (বড়দানা) বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ৬৮-৭০ টাকা। খোলা আটা প্রতি কেজি ৩০-৩২ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ২৫-২৬ টাকা। ভোজ্য তেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৮৬-৮৭ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৭৯-৮২ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৫১০ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা। চিনির দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে।

শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী শঙ্কর চন্দ্র ঘোষ বলেন, ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে পেঁয়াজের মোকামে শ্রমিকরা তিন দিন ধর্মঘট করছিল, সে কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। এ ছাড়া মাওয়া ঘাটে ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।

যে কারণে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কম হওয়া এবং মাসের শুরুতে অনেকেই বেতন পেয়ে একবারে বেশি করে পণ্য কিনতে বাজারে আসায় চাহিদা বৃদ্ধি এবং পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় পণ্যটির দাম বেড়েছিল। তবে গত রোববার ভারত থেকে তিন হাজার টন পেঁয়াজ এসেছে। ফলে আস্তে আস্তে বাজার স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, বেশি কারসাজি করছে খুচরা বিক্রেতারা। তারা সুযোগ বুঝে বাড়তি দরে বিক্রি করছে।

এদিকে আগামী রোববার থেকে দেশব্যাপী স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি। ইতোমধ্যে পেঁয়াজ কেনা ও ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। তবে ঠিক কতটি ট্রাকের মাধ্যমে ও প্রতি কেজি কত টাকা মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি হবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে সারা দেশে নিত্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজারে অধিদফতর তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশে চাল, আলু, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। তাই নিত্যপণ্য নিয়ে কারসাজি করলে অধিদফতর জিরো টলারেন্স (শূন্যসহিষ্ণুতা) দেখাবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আমাদের বাজারের পাশাপাশি ভারতের বাজারেও ইতোমধ্যে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এজন্য এ বছর রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। প্রয়োজনে পেঁয়াজ আমদানিতে পাঁচ শতাংশ শুল্ক কমানো হবে।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকটি টিম বেনাপোল ও হিলিতে যাবে। সেখানে দেখবে আমদানির কী অবস্থা। একটু দাম বেড়েছে বাজারে। বন্যার কারণে সরবরাহে সমস্যা হয়েছে। আমরা খুব চেষ্টা করছি। টিসিবি বড় পরিসরে নামছে। ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ন্যায্যমূল্যে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করব। আমরা সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করব। ফুল মনিটর করছি, দেখা যাক।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা গেছে, এদিন প্রতি ডজন ডিমে ১০-১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১১৫ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১২৫-১৩০ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা। সবজির মধ্যে মঙ্গলবার প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা, এক মাস আগে ২৫-৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ১২০-১২৫ টাকা, এক মাস আগে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পাকা টমেটো প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা। প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকা, এক মাস আগে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিন প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা, এক মাস আগে ৪৫-৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। প্রতি পিস মাঝারি আকারের লাউ বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা।

প্রতি কেজি করোলা বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকা, এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, এক মাস আগে ২৫-৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। অস্বাভাবিক দাম কাঁচামরিচে। এপ্রিল মাসে সাধারণ ছুটির শুরুতে কাঁচামরিচের কেজি ছিল ২০ টাকা। জুন পর্যন্ত মোটামুটি ৫০ টাকার মধ্যে ছিল দাম। বর্তমানে তা ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. লিয়াকদ বলেন, দেশে বন্যার কারণে সরবরাহ কমেছে। ফলে এখন সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। বন্যার কারণে ভারত থেকেও পণ্য কম আসছে। ফলে দেশের বাজারে সবজির দাম বেড়েছে।

পিডিএসও/হেলাল