রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা

সত্যতা মেলেনি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উসকানিতেই হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নিজ বিভাগের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ‘ছাত্রীর শ্লীলতাহানি’ অভিযোগের সত্যতা মেলেনি বলে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাজু আহমেদ।

গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। আগামী ১১ অক্টোবর প্রতিবেদনটির শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ জন শিক্ষার্থী গ্রাফিক্স ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও মানসিকভাবে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেন। এদিকে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এর নেপথ্যে কয়েকজন শিক্ষকের উসকানি ছিল বলে উল্টো অভিযোগ করেছেন বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, সামনে ডিন নির্বাচনে প্রার্থিতা এবং ম্যুরাল তৈরির কাজ পাওয়া নিয়ে প্রতিহিংসার জেরে বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করেছেন শিক্ষকরা।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজু আহমেদ বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। কিন্তু এজাহারে বর্ণিত অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতাও পাইনি। এজন্য আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে মামলা থেকে আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছি। এছাড়া প্রতিবেদনের সঙ্গে বিভাগের সভাপতিসহ ১১ জন শিক্ষক, ৭ জন শিক্ষার্থীসহ ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দিও যুক্ত করা হয়েছে।’

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল নয়ন গতকাল বলেন, ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা হওয়ায় আসামির অব্যাহতি প্রদান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।’ তবে মামলার বাদী ভিকটিম ছাত্রী বলেন, ‘শুনেছি, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পারিনি।’

শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে অভিযোগ করানোর বিষয়ে জানতে গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক বিলকিস বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি কানাডায় অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী বলেন, ‘রাজশাহী অঞ্চলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমি ম্যুরাল নির্মাণের কাজ করেছি। সবশেষ সিঅ্যান্ডবি মোড়ে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বানানোর কাজটিও আমাকে দেওয়া হয়। বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকও কাজটি পেতে চেষ্টা করছিলেন। তাই তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে কাজটি বন্ধ করে দেন। এছাড়া সামনে ডিন নির্বাচনে অনুষদের অনেক শিক্ষক আমাকে প্রার্থী হতে বলছিলেন। বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা উঠায় কিছু শিক্ষক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেন। এসবের মধ্যেই হঠাৎ শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করিয়েছে।’

 

 

"