মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

  ১০ অক্টোবর, ২০২১

ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি মরণফাঁদ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পেকুয়া-পাথরঘাটা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলছে যানবাহন। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের কেয়ার বাংলাদেশ ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের ব্রিজটি নির্মাণ করে। ব্রিজটি দিয়ে মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর, কটামারা, ইনথখাচালা, বংশীনগর, দীঘিবাড়ি, মুথারচালা ও বালিয়াজানসহ সখীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি, দেওয়ানপাড়া, বাজাইল ও কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া, মুনচালা ও পাগুড়াচালা গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ মির্জাপুর সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে।

গত দুই বছর আগে ব্রিজটিতে ফাটল দেখা দিলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। সম্প্রতি সেতুর মাঝখানের স্ল্যাব ভেঙে রড বেরিয়ে গেছে। যেকোনো যানবাহন এ ব্রিজে উঠলেই কাঁপতে থাকে।

এলাকাবাসী জানায়, পেকুয়া থেকে বাঁশতৈল হাটে যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। খেতের উৎপাদিত সবজিবাজারে বিক্রি করতে বিপাকে পড়তে হয়। আগে উৎপাদিত এসব ফসল বাজারে নিতে পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন ব্রিজের ভাঙা অংশের কারণে এসব যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এ জন্য ভ্যানে করে কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে হয়। ফলে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুণতে হয়।

স্থানীয় সিএনজিচালক আবুল জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। যাত্রী নিয়ে ব্রিজের সামনে নামিয়ে তারপর পার হতে হয়।

বাঁশতৈল ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন জানান, পেকুয়া ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান জানান, ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ব্রিজটি অনেক পুরোনো হওয়ায় ওই স্থানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি। এ জন্য একটি প্রকল্প প্রণয়নের মাধ্যমে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close