গাইবান্ধা প্রতিনিধি

  ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে গৃহহীন দুই হাজার পরিবার

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে প্রায় ২ হাজার পরিবার। আবাদি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে পরিবারগুলো চরম দুর্দশার দিন পার করছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে আরো অনেক ঘরবাড়ি।

জানা গেছে, চলতি বছর সরকারি হিসাবে বন্যায় ফুলছড়ি উপজেলার ২ হাজার ৩৫টি পরিবার ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৫১০টি পরিবার। নদীভাঙনে ক্ষতবিক্ষত এসব পরিবার জায়গা জমি না থাকায় আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও জেগে উঠা চরসহ বিভিন্ন এলাকায়। সবচেয়ে বেশি ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষিরভিটা, মধ্যউড়িয়া, গজারিয়া ইউনিয়নের গলনা, ঝানঝাইর, ভাজনডাঙা, ফুলছড়ি ইউনিয়নের পিপুলিয়া, পূর্ব গাবগাছি, টেংরাকান্দি, বাজে ফুলছড়ি, বাগবাড়ি, ফজলুপুর ইউনিয়নের খাটিয়ামারী, কুচখালী, এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ডাকাতিয়ারচর ও জিগাবাড়ি গ্রাম। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে এসব এলাকার অবস্থান হওয়ায় তীব্র স্রোতে চোখের নিমিষেই বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি ও বসতভিটা। গজারিয়া ইউনিয়নের গলনা গ্রামের ফজলু মিয়া জানান, বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষজনের মধ্যে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন। প্রায় ৩৫ বছর আগে নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে গলনা গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। চরের মধ্যে যেটুকু জমি ছিল তা দিয়ে ভালোই সংসার চলত। কিন্তু এবারের ভাঙনে আগে ঘরের সব জিনিস নিতে পারিনি। হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই নৌকায় তুলে নিয়েছি। গজারিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাসান আলী বলেন, গলনা গ্রামে প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করে আসছে। নদীতে পানি কমে গেলেও স্রোতে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে একটি গুচ্ছগ্রামসহ ২০০ পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। লোকজন তাদের বাড়িঘর সরানোর সময় পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ফুলছড়ির ইউএনও আবু রায়হান দোলন বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ২৫ টন জিআর চাল, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close