বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অবহেলায় কোটি টাকার পাঠ্যবই

পটুয়াখালীর বাউফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া কোটি টাকার বই অযতœ ও অবলোয় নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীরা বিরূপ মন্তব্য করলেও সংশ্লিষ্টরা একে অপরকে দোষারোপ করেছেন।

জানা গেছে, বাউফলে ৬১টি মাধ্যমিক ও ৬৭টি দাখিল পর্যায়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক কলেজিয়েট স্কুল, আলিম ও ফাজিল প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সব বই জমা রাখা হয় উপজেলার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা অডিটরিয়াম ভবনে। সেখান থেকেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় নতুন বই।

সরেজমিনে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটানোর পরেও ২০১৮, ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির মাধ্যমিক ও দাখিলের ২ হাজার ৬০০ স্কয়ার ফুটের তিনটি ভবনের নিচে অযত্ন অবহেলায় পরে রয়েছে হাজার হাজার বইয়ের স্তূপ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বৃষ্টির পানি ও বাথরুমের ময়লা পানিতে একাকার হয়ে পচে গলে যাচ্ছে এসব বই। পরিত্যক্ত অবস্থায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বইগুলো।

সুযোগ বুঝে স্থানীয় অসাধু লোকজন বইগুলো গোপনে ফেরিওয়ালা ও দোকানিদের কাছে বিক্রি করছে। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রতিষ্ঠানের চাহিদানুযায়ী তালিকা তৈরি করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। শিক্ষা কর্মকর্তা ওই তালিকা যাচাই বাছাই করে জেলায় প্রেরণ করেন। শিক্ষা অধিদপ্তর চাহিদা মোতাবেক মাধ্যমিক ও দাখিল পর্যায়ের সব শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক উপজেলায় প্রেরণ করে থাকে। সেখান থেকেই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইগুলো বিতরণ করা হয়। বইগুলো রক্ষণাবেক্ষনের জন্য রয়েছে পাঁচ সদস্যের কমিটি, যেখানে নিয়োগ দেওয়া আছে একজন প্রহরীকে। কিন্তু বাস্তবে এসব কিছুই নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, নৈশপ্রহরী ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যেসব অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা কাজে না লাগিয়ে আত্মসাৎ করছেন দায়িত্বে থাকা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান।

বাউফল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম রাসেল সুমন জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী বই পাচ্ছে না। অথচ এখানে লাখ লাখ বই নষ্ট হয়ে পচে গলে যাচ্ছে।

বাউফল মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস আক্তার জাহান সাংবাদিকদের বলেন, তার ক্যাম্পাসের পাশেই মুক্তিযোদ্ধা অডিটরিয়ামে বইগুলো রাখা হয়েছে। বইগুলো পানিতে নষ্ট হচ্ছে এবং স্থানীয় কিছু লোকজন গোপনে সেগুলো বিক্রি করছেন। অনেক সময় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী তাদের ধরতে সক্ষম হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। বিষয়টি তিনি মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্যে বিনামূল্যে সরকারের দেওয়া পাঠ্যবই নষ্ট হতে পারে না। তবে তিনি মাত্র সাত মাস দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন।

পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close