বেলকুচিতে যমুনা পাড়ে হচ্ছে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন মানুষ ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং প্রাণিসম্পদ সুরক্ষার লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে প্রায় ২ কোটি ৮৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র। আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ডি এস এ উচ্চবিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে। এরই মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ভবনটির নির্মাণকাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স পিয়াস কনস্ট্রাকশন সিরাজগঞ্জ’।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙন এলাকায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটির আওতায় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটির কাজ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মন্ডল ভবনটি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। শুরু হলেও শেষ করতে ২০২১ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময় লাগবে।

তিন তলাবিশিষ্ট ভবনের প্রথমতলায় ডান পাশে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষভাবে বাথরুমসহ থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। বামপাশে প্রথম তলায় গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মালামাল রাখার ব্যবস্থার পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলায় দুর্যোগের সময় নারী-পুরুষ-শিশু আশ্রয় নিতে পারবেন। আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৪০০ জন নারী-পুরুষ-শিশু ও ১০০টি গবাদিপশু ধারণ ক্ষমতার এ ভবনে খাবার পানির জন্য গভীর নলকূপ অন্যান্য কাজে ব্যবহারে জন্য অগভীর নলকূপ, বাথরুম এবং পানি উঠানোর মোটর বসানো হবে। রাতের বেলা সৌর বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত হবে ভবন। দুর্যোগবিহীন সময়ে এ ভবনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী করা এবং প্রকল্প এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীদের উন্নত পরিবেশে শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, উপজেলায় এ-ই প্রথম এ ধরনের আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে অনেক পরিবার এখানে আশ্রয় নিতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখার সুযোগ পাবে।

এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাজেদুল জানান, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন আক্রান্ত মানুষের জীবন, প্রাণিসম্পদ ও অন্যান্য সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী এবং প্রকল্প এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীদের উন্নত পরিবেশে শিক্ষালাভের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

 

 

"