ডা. অবন্তি ঘোষ
বন্ধ্যত্বের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের জন্য পুরুষের সমস্যা দায়ী

চিকিৎসাবিজ্ঞানে সব বন্ধ্যত্বের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের জন্য পুরুষের সমস্যা দায়ী। এ ছাড়া পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে গেলে, শুক্রাণুর গতি কম থাকলে কিংবা একেবারেই শুক্রাণু না পাওয়া গেলে এবং স্বামী-স্ত্রী নিয়মিত সহবাসের পরও যদি এক বছরের মধ্যে গর্ভধারণ না হয়, তাহলে সেটিকে বলা হয় পুরুষ বন্ধ্যত্ব।
অন্যান্য কারণগুলো হলো-
জীবনযাপন ও অভ্যাসের কারণ, নিয়মিত ধূমপান, অ্যালকোহল ও অন্য নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ, দীর্ঘ সময় বসে থাকা অথবা কম নড়াচড়া করা, অতিরিক্ত ওজন, অনিয়মিত ঘুম ও মানসিক চাপ।
প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে- শহুরে জীবন, বলছেন বিজ্ঞানীরাপ্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হতে পারে শহুরে জীবন, বলছেন বিজ্ঞানীরা শরীরের ভেতরের হরমোন ও শারীরবৃত্তীয় কারণ, টেস্টোস্টেরন হরমোনের সমস্যা, থাইরয়েড হরমোনের অস্বাভাবিকতা, প্রোল্যাকটিন হরমোনের বৃদ্ধি ও জিনগত সমস্যা
সংক্রমণ ও শারীরিক রোগ : ক্ল্যামাইডিয়া বা গনোরিয়া সংক্রমণ, অণ্ডকোষের টিউমার, ভেরিকোসিল, মামস-পরবর্তী অণ্ডকোষের প্রদাহ, শুক্রনালির ব্লকেজ, পরিবেশগত কারণ, যাঁদের দীর্ঘ সময় গরম পরিবেশে কাজ করতে হয় এবং যারা নিয়মিত গরম পানিতে গোসল করেন।
পুরুষ বন্ধ্যত্ব যেভাবে নির্ণয় : বীর্য পরীক্ষার পর শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি, আকৃতি, পরিমাণ ইত্যাদি দেখা হয়। অন্তত তিন দিন সহবাস বন্ধ রেখে নমুনা দিতে হয়, প্রথম পরীক্ষার রিপোর্ট খারাপ হলে এক মাস পর আবার পরীক্ষা করা হয়, দ্বিতীয় পরীক্ষাও স্বাভাবিক না হলে অ-কোষের আলট্রাসনোগ্রাম এবং হরমোন পরীক্ষা করা হয় এসব পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় সমস্যা কোথায়, কতটা এবং কোন ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন।
চিকিৎসা : চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যা কেমন এবং কোন স্তরে রয়েছে, তার ওপর। সাধারণভাবে চিকিৎসা কয়েকটি ধাপে করা হয়।
জীবনযাপনের পরিবর্তন : ওজন নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, শাকসবজি, ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার কমানো, ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করা, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম, ওষুধ ও পুষ্টিগুণ, শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতি উন্নত করতে কিছু পুষ্টি উপাদান এবং ভিটামিন দেওয়া হয়, যেমন- লেভোকার্নিটিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই,
ভিটামিন ডি, বি-কমপ্লেক্স, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ওষুধ শুরুর পর রোগীকে তিন মাস পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কারণ, নতুন শুক্রাণু তৈরিতে প্রায় ৭৫ দিন
লাগে।
স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের চেষ্টা : ওষুধে উন্নতি হলে স্বামী-স্ত্রী স্বাভাবিক পদ্ধতিতে গর্ভধারণের চেষ্টা করতে পারেন। প্রয়োজনে স্ত্রীকে ডিম্বাণু উৎপাদন বাড়ানোর ওষুধ দেওয়া হয়।
বিশেষ চিকিৎসা : যদি শুক্রাণুর সংখ্যা বা গতি মাঝারি কম হয়, তাহলে আইইউআই (গর্ভাশয়ে শুক্রাণু প্রবেশ করানো) করা যায়। সংখ্যা খুব কম হলে বা গতি খুব খারাপ হলে আইসিএসআই (শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুর মধ্যে প্রবেশ করানো) করা হয়। ভেরিকোসিল কিংবা শুক্রনালির ব্লকেজ থাকলে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যাজোস্পার্মিয়া হলে করণীয়: যাদের বীর্যে একেবারেই শুক্রাণু পাওয়া যায় না, যাকে অ্যাজোস্পার্মিয়া বলা হয়, তাদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ থেকে সরাসরি শুক্রাণু সংগ্রহ করে আইসিএসআই করাই সবচেয়ে কার্যকর।
লেখক : গাইনি
প্রসূতি ও বন্ধ্যাত্ব রোগ বিশেষজ্ঞ
আলোক হেলথকেয়ার
মিরপুর-১০
"









































