নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৮ ঘণ্টা আগে

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বদলিপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হলো। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে পদায়ন করা হয়।

এদিকে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানবাক্স বসানো হয়। এরপর গত শুক্রবার জুমার আগে আরেক ওলি হজরত শাহপরান (রহ.) মাজারে গিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। নামাজের আগে মাজার মসজিদে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা ও মাজারে মদণ্ডগাঁজার আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, ওলি-আউলিয়ারা এ মাটিতে শুয়ে আছেন, উনাদের উসিলায় যেকোনো বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি। এসব ওলি আউলিয়ার মাজার-মসজিদ উন্নয়নে কিছু কাজ করা দরকার। পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার। এসব মাজারকেন্দ্রিক একটা মাস্টারপ্ল্যান করা উচিত। এখানে মেডিকেল সেন্টার থাকবে। নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকবে।

মানুষ দানের ক্ষেত্রে কোন জিনিস চায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানুষ চায় তার দানের টাকায় কোন জিনিস করবেন এবং তার দানর টাকা স্বচ্ছতা থাকবে। কেউ মেরে নিয়ে যাবে না। তখন সে মন খুলে দান করবে। মানুষ চায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এ মাজারগুলো পবিত্র স্থান। এ মাজারগুলোর আয়ের হিসেব স্বচ্ছ থাকতে হবে। স্বচ্ছ না থাকলে মানুষের আস্থা থাকবে না।

তিনি বলেন, আরেকটা অনুরোধ থাকবে, এ মাজারগুলোয় যাতে কোনোভাবে মদণ্ডগাঁজার আসর না বসে। এ অভিযোগগুলো কিন্তু আমাদের কাছে প্রায়ই আসে- অমুক মাজারে মদ খাইতেছে, গাঁজা খাইতেছে। এটা করা যাবে না। এটি আইনত অপরাধ, আরেকটা হচ্ছে পবিত্র স্থানে বসে অপরাধ করছে। আমরা কিন্তু এ বিষয়ে এখন শক্ত অবস্থান নেব। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দিগুণ হবে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে দানবাক্স স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে সিলগালা করা হয়েছে দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ। দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়। যদিও এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাজার ভক্তরা। প্রশাসনের এমন উদ্যোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল (রহ.) মাজারে হাজারও ভক্ত-অনুরাগীরা বিক্ষোভ করেন।

নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরো সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এ দান বাক্সগুলোয় জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়