প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

  ৬ ঘণ্টা আগে

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শাস্তিমূলক শুল্ক বসাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত আমদানি শুল্কারোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানোর কারণে বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতির ওপর শুল্ক বসানো হবে। এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার প্রস্তাব ঘোষণা করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা ব্যবহার করে ইউএসটিআর বলছে, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের এ ব্যর্থতা মার্কিন শ্রমিকদের জন্য একটি অসম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে। এ প্রস্তাবে জবরদস্তিমূলক শ্রমের পণ্য আমদানিতে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা প্রয়োগে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বাংলাদেশ, ভারত চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ৫৪টি দেশের অর্থনীতিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো ও পাকিস্তানসহ আরো ছয়টি দেশকে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আংশিক বাণিজ্য ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক এবং যাদের এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই, তাদের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হতে পারে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর বলেছে, বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়েতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্যের ওপর বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্কারোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অন্যদিকে তাদের তদন্ত করা বাকি ৪৫টি দেশের ওপর ১২.৫ শতাংশ শুল্কারোপ করতে বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, নাইজেরিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। এ পদক্ষেপটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না, বরং এটি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত এ বিষয়ে লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এর বাইরে পোশাক ও টেক্সটাইল আমদানির জন্য একটি আলাদা ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কিছুটা কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে; যদিও এ কোটার বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় এসেই বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্কারোপ করেন। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির আদালত এ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালত জানান ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ঢালাওভাবে কোনো শুল্কারোপ করতে পারেন না। এরপর ট্রাম্পের সরকার এটির বিরুদ্ধে আপিল করে। কিন্তু তার আগেই এখন নতুন কৌশলে শুল্কারোপের দিকে এগোচ্ছেন ট্রাম্প।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়