নিজস্ব প্রতিবেদক

  ৬ ঘণ্টা আগে

হাম ও উপসর্গ

শিশুমৃত্যু ছাড়াল ৬০০

দেশে হামের উপসর্গে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় তারা মারা যায়। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০১ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১১ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯০ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬০১ জনে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো ১ হাজার ২১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬০ হাজার ১৫৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫৫ হাজার ৯৪২ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে টিকায় সংক্রমণ কিছুটা কমেছে বলেই প্রতীয়মান। প্রায় দুই মাস আগে ৫ এপ্রিল হামের টিকা দেওয়া শুরু হয়েছিল। অনেকেরই আশা ছিল টিকা দেওয়া শুরু হলে হাম কমবে, নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। কিন্তু হামের সংক্রমণ ও হামের ভয় এখনো সারা দেশে রয়ে গেছে। গত ৫ এপ্রিল টিকা দেওয়া শুরু হয় বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, ঢাকার নবাবগঞ্জ, গাজীপুর সদর, যশোর সদর, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও ফুলপুর, নাটোর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, পাবনা সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায়। এরপর ৮ এপ্রিল থেকে টিকা দেওয়া শুরু হয় ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার। তবে টিকা দেওয়া হয়েছে ১০০ শতাংশের বেশি। ৫ বছরের বেশি বয়সি কিছু শিশু টিকা পেয়েছে বলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানান।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়