কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

  ২৬ নভেম্বর, ২০২১

প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত স্থানে মাথা গোঁজার ঠাঁই চান কুয়াকাটার জেলেরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ভাসমান জেলেদের বসবাসের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে সাগর পাড়ে গড়ে দিয়েছিলেন ‘আদর্শ গ্রাম’। কুয়াকাটায় সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে ৫১৭৮ দাগে বেড়িবাঁধের ভেতরে জায়গা দিয়েছিলেন স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য। কিন্তু তখনকার এই অঞ্চলের ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ ক্ষমতাসীনরা জেলেদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সাগর পাড়ে ঝুঁকির মধ্যে বাস করার ব্যবস্থা করে দেন। প্রায় ৫০টি পরিবারের সুখ-দুখের ঠিকানা ছিল গ্রামটি। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড় সিডরের তান্ডবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় আদর্শ গ্রাম। ১৪ বছর ধরে তারা গৃহহীন। তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত স্থানে মাথা গোঁজার ঠাঁই চান।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, সিডর পরবর্তী সময়ে মানবিক সহায়তা দানকারী সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় তাদের পুনর্বাসিত করা হয় কুয়াকাটার বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু তারা পুনর্বাসিত ঘরদোর ফেলে বসবাস করেন সাগর পাড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষোভের সঙ্গে নানা অভিযোগ তোলেন আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা। ওই গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম আকন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের অসহায়ত্ব দেখে ২০০১ সালে কুয়াকাটায় সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে ৫১৭৮ দাগে বেড়িবাঁধের ঘরকুলে জায়গা দিয়েছিলেন স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য। কিন্তু তখনকার এই অঞ্চলের ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ ক্ষমতাসীনরা আমাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সাগর পাড়ে ঝুঁকির মধ্যে বাস করার ব্যবস্থা করে দেন। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর আমাদের সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে দেয়। সিডর পরবর্তী সময়ে রেডক্রিসেন্ট যে ঘর করে দিয়েছেন তা আমাদের ইনকামের একমাত্র উৎস মাছ ধরার স্থান থেকে অনেক দূরে। আসা-যাওয়ায় প্রায় ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। আমরা সাগরে কোনো দিন মাছ পাই আবার কোনো দিন পাই না। স্ত্রী-সন্তান নিয়া দুবেলা খেয়ে যাতে বাঁচতে পারি সেজন্য রেডক্রিসেন্টের ঘর ফেলে সাগরপাড়ে থাকি।

আদর্শ গ্রামের আরেক বাসিন্দা মো. বাবুল পহলান বলেন, রেড ক্রিসেন্ট থেকে যে ঘর পেয়েছি তা বসবাস করার মতো না। ছেলেমেয়ের পড়ালেখার কোনো সুযোগ নেই। অসুস্থ হলে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার রাস্তা নেই। আমাদের কর্মস্থল অনেক দূরে হওয়ায় বাড়িঘর ছেড়ে মানবেতরভাবে বেড়িবাঁধের পাশে থাকতে বাধ্য হয়েছি।

মো. মোজাম্বেল বলেন, যখন আদর্শ গ্রামের ঘরগুলো দেওয়া হয়েছিল তখন থেকে ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছিলাম। সাগর ভাঙতে শুরু করে। প্রভাবশালীদের কারণে আমরা তখন প্রতিবাদ করতে পারিনি। তারা আমাদের সঙ্গে বেইমানি করেছে। সিডরের পর রেডক্রিসেন্ট যে ঘর দিয়েছে তাও বাসযোগ্য নয়। বর্ষার সময় হাঁটু সমান কাদা থাকে। চারদিকে পানি থাকে। চিকিৎসা, শিক্ষা, খাবার পানি, হাটবাজারের সুব্যবস্থা নেই। তাই আমরা সাগর পাড়ে খুপরি ঘরে থেকে সাগরে মাছ ধরে কোনোমতে সংসার চালাই। এখন আবার শুনছি এখানেও থাকা যাবে না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা মাথাগোঁজার স্থান চাই।

উল্লেখ্য, বর্তমানে কুয়াকাটা বেড়িবাঁধের উন্নয়ন কাজের জন্য আশপাশে বসবাসকারী সবাইকে দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার কুয়াকাটা আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা দাবি তোলেন, সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ান ৫১৭৮ দাগে বেড়িবাঁধের বাইরে দুষ্কৃতকারীদের যোগসাজশে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার কারণে সিডরে ওই গ্রামটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এখন দলিলে উল্লেখিত দাগে বেড়িবাঁধের ভিতর সাইডে যে জমি আছে সেখানে দলিল অনুযায়ী প্রত্যেকের নামে বিএস করে দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকা ইউপি চেয়ারম্যান বারেক মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, সে সময়ে আদর্শ গ্রাম যেখানে দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে সাগর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল। গ্রামটি যে এভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তা সবার কল্পনাতিত ছিল।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close