আব্দুল আলিম, সাতক্ষীরা

  ১৫ অক্টোবর, ২০২১

জমি ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ধর্ণা

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালীতে ১ হাজার ৩২০ বিঘা (৪৩৯ দশমিক ২০ একর) জমি ও মাছের ঘের জবর দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিকদের অভিযোগ, গভীর রাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। দখলকারীরা নিজেদের ভূমিহীন পরিচয় দিচ্ছে। নামধারী ভূমিহীনরা ওই সম্পত্তি খাস বলে দাবি করলেও জেলা প্রশাসক বলছেন, সেখানে কোনো খাস জমি নেই। এই সম্পত্তি সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানাধীন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর বলে তিনি দাবি করেন। এ দিকে, সম্পত্তি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি ওই জমির মালিকরা। এখন পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকরা গত মঙ্গলবার সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে সেখানে রাস্তায় ওপর বাঁশ ফেলে ও বাঁশ টানিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয় অভিযুক্ত দখলকারীরা। তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের যাওয়ার অনুমতি দেন। তড়িঘড়ি করে ওই স্থানকে ‘শেখ মুজিব নগর খলিশাখালী আবাসন কেন্দ্র’ নাম ঘোষণা করে সেখানে লাল পতাকা তুলে দেয় তারা। ওই সময় খলিশাখালী সড়কের ওপর নির্মিত একটি ব্রিজের ওপর শতাধিক নারী একত্রিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

জমির প্রকৃত মালিক বলে দাবি করে ডা. মো. নজরুল ইসলাম, কাজী গোলাম মোরশেদ ও আলহাজ মো. আনছার আলীসহ কয়েকজন জানান, খলিশাখালীতে রেকর্ডীয় ও লিজকৃত ৩০টি খণ্ডে বিভক্ত তাদের বিস্তীর্ণ মৎস্যঘের ও জমি স্থানীয় কিছু ভূমিহীন নামধারী বহিরাগতসহ সাত শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার জোরপূর্বক দখল করে নেয়। দখলের পর ঘের থেকে প্রায় চার কোটি টাকার মাছ লুট এবং ঘেরের বাসাবাড়ি ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকার চেয়ে তারা দেবহাটা থানা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন তারা। জমির প্রকৃত মালিক বলে দাবিদাররা দেবহাটা থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ কোনো মামলা গ্রহণ না করে তাদের ফিরিয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে তারা গত ১২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা কোর্টে মামলা করা হলে আদালত মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তারা এ সময় ওই সম্পত্তি দখলমুক্ত ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে বসবাসকারী হাসিনা বেগম, মাজেদা বেগম, আনোয়ারা বেগম, শাহিনা পারভীনসহ অনেকেই জানান, এই সম্পত্তি পুরাটাই খাস জমি। তাদের কোনো জায়গা-জমি না থাকায় তারা এই খাস জমি দখল করে সেখানে বসবাস করছেন বলে জানান। এ সময় তাদের কাছে মাছ লুট করেছেন কেন এমন প্রশ্ন করা হলে তার জবাবে তারা জানান, লুট করা হয়েছে এমন কথা বলবেন না। মাছগুলো যে যার মতো ধরে নিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ জানান, এরই মধ্যে খলিশাখালীতে জমি দখলে নেতৃত্বদানকারী নামধারী ভূমিহীনদের ভূমিহীন সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এ সময় তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সাতক্ষীরা জেলা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ভূমিহীন নেতা আলীনুর খান বাবুল জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভূমিহীনদের নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। কিন্তু বর্তমানে যে নামধারী কিছু বহিরাগত ভূমিহীন সন্ত্রাসী খলিশাখালীতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি খাস বলে সন্ত্রাসী স্টাইলে দখল করেছেন এর তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ন কবির জানান, খলিশাখালীতে চার শতাধিক একর জমি জবর দখলের খবর আমাদের নজরে এসেছে। এক পক্ষ আবেদনও করেছেন। আমরা নথি ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখলাম এই সম্পত্তি পুরোটাই ব্যক্তি মালিকানাধীন। তবে, চার শতাধিক একরের মধ্যে ১০-১২ একর জমি খাস রয়েছে সেটি খালের মধ্যে, আর বাকিটা সম্পূর্ণই ব্যক্তি মালিকানাধীন। তিনি জানান, ইতিপূর্বে এই জমি নিয়ে যে মামলা চলছিল তার সব কাগজপত্র জিপি সাহেবকে দেওয়া হয়েছে। তিনি একটি প্রতিবেদন আমাদের দেবেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে দ্রুতই উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close