গাজী শাহনেওয়াজ

  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এনআইডি কার্যক্রম স্থানান্তরে ধীরগতি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম স্থানান্তরে ধীরগতিতে এগোচ্ছে সরকার। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এটাকে আলাদা করতে তাদের সময় লাগতে পারে এক বছর। বিলম্বে হলেও এই উপলক্ষে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে সরকার।

গঠিত কমিটি এনআইডি স্থানান্তরের কারিগরি সব দিক খতিয়ে দেখবে। টেকনিক্যাল ৯ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের অর্থ ও অনু বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে। বাকি সদস্যরা হলেন নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনু বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি), গাজীপুর ডাটা সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিবের নিচে নয়), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের একজন প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিবের নিচে নয়), তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের একজন প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিবের নিচে নয়) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডাটা সেন্টারের (পরিচালক)। টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের (বহির্গমন-৫) এর উপসচিবকে।

এনআইডি স্থানান্তরে কমিটি ৩টি বিষয়ে সুপারিশ করবে। সুপারিশগুলো হলো জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন আনতে কারিগরি বিষয় যাচাই করে স্থানান্তরের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়ন, স্থানান্তরের যোগ্য অবকাঠামো-জনবল প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়ন করা এবং নির্বাচন কমিশন থেকে এনআইডি স্থানান্তরের একটি সুপরিকল্পিত পথনকশা (রোডম্যাপ) প্রণয়নের সুপারিশ করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তা জানান, দেশব্যাপী বিস্তৃত এনআইডির কার্যক্রম। হুট করে এটা স্থানান্তরের আগে কারিগরি অনেক দিক ভেবে দেখতে হচ্ছে সরকারকে। উদ্যোগের শুরুতে একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল; যা ধীরে চলো নীতির কারণে গত ২৯ আগস্ট করা হয়েছে। এনআইডি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই কমিটির সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কারিগরি কমিটি। তবে এই কমিটি গঠনের আগে সুরক্ষা বিভাগ স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের কাজগুলোও চালিয়ে যাচ্ছে। লক্ষ্য একটা যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত আইন, যা এনআইডির কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে সহজ হবে।

নির্বাচন কমিশনের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, আমরা দেখছি এনআইডি স্থানান্তরে সরকার শুরুতে যতটা তোড়জোড় দেখিয়েছিল বর্তমানে কিছুটা ধীরগতি। এর অর্থ এই নয় যে, এনআইডির সেবা নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকছে। সরকারের যেকোনো বিষয়ে নিজেদের অধীনস্থ করার ইচ্ছা পোষণ করলে সেটা বিলম্বে হলেও হয়। মাঝখানে হয় কিছুটা আলোচনা-সমালোচনা।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, এনআইডি সরকারের সুরক্ষা বিভাগের অধীন করার জন্য প্রথম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত ১৭ মে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর কমিশন থেকে এই সেবা তাদের

কাছে চলমান রাখতে দশ যুক্তি তুলে পত্র দিলেও ইতিবাচক সাড়া দেয়নি সরকার। এরই মধ্যে এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের অধীন এলে কীভাবে সেটা চলবে তার একটা খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়। সেখানে স্বতস্ত্র অধিদপ্তর, নিজস্ব জনবল কাঠামো এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা বসিয়ে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা এখনো বলবৎ আছে।

পাশাপাশি সম্প্রতি গঠিত টেকনিক্যাল কমিটি গঠন এবং তাদের দেওয়া সুপারিশের আলোকে এনআইডি সেবা ইসির হাত ছাড়া হচ্ছে; তা স্পষ্ট করল সরকার।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, এনআইডি পরিচালনার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নেওয়া দরকার সরকার তা করছে। টার্গেট আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের অধীনস্থ করা। সেই অর্থে এটা সুরক্ষা বিভাগের অধীন পরিচালিত হবে তা সংশয় ছাড়াই বলা যায়।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আইন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আইন ফেরত পাঠালো কি পাঠালো না সেটা বিবেচ?্য নয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সম্মতি গ্রহণ হবে এটা বলা যায়।

২০০৭ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নকালে নাগরিক জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন কাজটি একটি স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষের অধীনে রাখার প্রস্তাবনা ছিল। তবে ছবিসহ ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র একই ধরনের হওয়াই এত দিন ইসি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছে। এখন একটি নির্ভুল ডাটা সার্ভার হওয়াই সরকার তাদের অধীনস্থ করতে উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এনআইডি সেবা সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন সুরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা।

 

 

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close