ব্রেকিং নিউজ

সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী

নীতিহীন সাংবাদিকতা থেকে বিরত থাকুন

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন লেখা এবং দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নীতিহীন সাংবাদিকতা কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। জাতিকে বিভ্রান্ত করতে পারে এমন সংবাদ পরিবেশন করবেন না। এমন প্রতিবেদন তৈরি করবেন না যা মানুষের মধ্যে বা সমাজে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। গতকাল রোববার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। আর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সংগঠনটির বর্তমান এবং সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করবেন। কারণ আপনাদের প্রতিবেদন অনেক সহযোগিতা করে। বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে।

সেসব প্রতিবেদন পড়ে আমরা অনেক অসহায় মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াই, আবার অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও করতে পারি। অনেক দোষীকে শাস্তি দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি। এ সময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক সময় আপনারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

নীতিহীন সাংবাদিকতা পরিহারের জন্য জাতির পিতার এক ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতায় আমরা নীরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখিতা চাই এবং দেশ ও জাতির প্রতি যেন কর্তব্যবোধ থেকে এটা হয় সেটাই আমরা চাই। নীতিহীন সাংবাদিকতা কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না, বরং ক্ষতি করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ। সেই সমাজের দর্পণ যেটা হবে, সেটা চিন্তা চেতনায় এবং দেশপ্রেমে যেন উদ্বুদ্ধ হয়। তিনি অতীতের উদাহারণ টেনে বলেন, একটা সময় আমাদের দেশে ছিল যতই দুর্নীতি হোক যতই অন্যায় হোক সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হতো। আমরা কিন্তু তা করছি না।

শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে যা রিপোর্ট হচ্ছে বা আমরা খবর পাচ্ছি, কোথাও দুর্নীতি বা অন্যায় হলে, আমরা কিন্তু এটা চিন্তা করি না- এর পেছনে আমাদের দল জড়িত, এখানে সরকারের বদনাম কিংবা দলের বদনাম হবে। আমরা চিন্তা করি, এখানে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে, এটা নিতে গেলে অনেক সময় দোষটা আমাদের ওপর এসে পড়ে। অনেকে বলে আওয়ামী লীগ সরকারই বুঝি দুর্নীতি করছে, ঘটনা তা নয়। কারণ দুর্নীতির বীজ বপন করে গেছে ’৭৫-এর পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো।

সরকার প্রধান বলেন, প্রথমে জিয়াউর রহমান, এরপর এরশাদ এরপর খালেদা জিয়া। তারা দুর্নীতিকে কেবল প্রশ্রয়ই দেয়নি বরং নিজেরাও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন-পালনই করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সেটা করছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা নিজেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একবার তিনি সাপ্তাহিক মিল্লাত নামে একটি পত্রিকা বের করেছিলেন। ইত্তেহাদ, ইত্তেফাকের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন। আবার আওয়ামী লীগের জন্য আরেকটি পত্রিকা তিনি বের করেছিলেন ‘নতুন দিন’ নামে। পরে জাতির পিতা সাপ্তাহিক বাংলার বাণী বের করেন। সেদিক থেকে আমি বলব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে আমিও সাংবাদিক পরিবারের সন্তান। তাই সাংবাদিকতায় আমরা কখনো বাধা দিইনি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা আপনাদের সেই সুযোগ দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রেখেছে। আমরা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অনড়, আমরা হলি আর্টিজান ঘটনা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মোকাবিলা করেছি। অনেকেই মনে করেছিল যে বাংলাদেশ একাই বিষয়টি সামলাতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছে কারণ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়।

ডিআরইউর সাবেক সভাপতি ও রজতজয়ন্তী উদ্যাপন কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদারের সভাপতিত্বে, ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, ডিআরইউ সাবেক সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, ডিআরইউর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা ফিরোজ, ডিআরইউর ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল কবীর, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী ও ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ সংগঠনের নেতারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ছিলেন।

 

"