দোয়া মাহফিলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

রাহাত খান ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, রাহাত খান একাধারে কথাসাহিত্যিক, লেখক ও সাংবাদিক ছিলেন। তিনি বহুমুখী গুণ ও প্রতিভার অধিকারী। আমি ছোটবেলা থেকে ‘রাহাত খান’ এই নামটি শুনেছি। তার সঙ্গে আমার পরিচয় প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার সময়। তার সঙ্গে কথা বলে যতটুকু বুঝতে পেরিছি তিনি দূরদৃষ্টি সম্পূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। তার সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকা। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার কার্যালয়ে একুশে প্রদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার প্রয়াত সম্পাদক রাহাত খানের স্মরণে দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

এই দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এস এম মাহ্বুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু ও রাহাত খানের স্ত্রী অপর্ণা খান।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় এখন যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পত্রিকাটি সব সময় সচল রাখা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে পত্রিকাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পত্রিকাটি সচল থাকলে রাহাত খান সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন। রাহাত খানের স্ত্রী অপর্ণা খানকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, রাহাত খানের পরিবারের সঙ্গে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকা পরিবার এবং কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ রাখবে এবং সব সময় তাদের পাশে থাকবে।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে সম্পাদক রাহাত খান একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি যেখানে ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইত্তেফাক ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি। আমরা তাকে মনে রাখব। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আমি সাংবাদিকতা পেশায় আসার পর রাহাত খানকে এ পেশায় পাই। তার সঙ্গে অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। তিনি ছিলেন খুব গুরুগম্ভীর সাংবাদিক। সাংবাদিকতার জন্য যে বিষয়টি থাকা দরকার ছিল তার মাঝে (ভাষা ও সাহিত্য) সে গুণগুলো ছিল। এজন্য তিনি প্রসিদ্ধ হয়েছেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতার খারাপ অবস্থা। বেশিরভাগ সাংবাদিকেরই ভাষাগত দক্ষতা নেই। পড়াশোনা করেন না তারা। ফেক নিউজ বেশি করেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে কারো বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন। এ ধরনের ভেজাল সাংবাদিকতা ঠিকবে না। ভালো সাংবাদিকতাই গণমাধ্যম জগতকে টিকিয়ে রাখবে।

ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, রাহাত খান সংবাদ ও রাজনীতি যেভাবে বিশ্লেষণ করতেন, তার মতো এখন আর কেউ করেন না। তার মতো লোক পাওয়া বর্তমানে খুব কঠিন। তিনি একজনই। তাকে আজীবন স্মরণে রাখতে হলে গণমাধ্যমকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে হবে।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, রাহাত ভাই আমাদের গর্ব। তিনি আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টি ও কর্মের মধ্যে।

রাহাত খানের স্ত্রী অপর্ণা খান বলেন, আমি গত কয়েক মাস আগেও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকা কার্যালয়ে এসেছিলাম। তখন খুব আনন্দগন মুহূর্ত ছিল। আর এখন রাহাত খানের আসনটি খালি। খুব বেদনা বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে ধন্যবাদ জানাই। আমি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামে কাছে আবেদন করব, যেন তিনি রাহাত খানের পরিবারের পাশে দাঁড়ান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এস এম মাহ্বুবুর রহমান বলেন, ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক দিয়ে সংবাদপত্র জগতে কাজ শুরু করেন রাহত খান। সর্বশেষ প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতো মানুষকে সম্পাদক হিসেবে পেয়ে আমার আনন্দিত ও গর্বিত ছিলাম।

উল্লেখ্য, একুশে পদকজয়ী রাহাত খানের জন্ম ১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর, কিশোরগঞ্জের একেবারেই প্রান্তিক গ্রাম জাওয়ারে। মৃত্যু ২৮ আগস্ট শুক্রবার ২০২০।

তার প্রথম উপন্যাস ‘অমল ধবল চাকরি’। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘এক প্রিয়দর্শিনী’, ‘ছায়াদম্পতি’,‘হে সুনীতি’, ‘সংঘর্ষ’, ‘শহর’, ‘হে অনন্তের পাখি’, ‘মধ্যমাঠের ফুটবলার’, ‘আকাক্সক্ষা’ ‘কয়েকজন’ ও ‘অগ্নিদাহ’।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৬ সালে তিনি একুশে পদক পান। এ ছাড়া ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৭৯ সালে সুফি মোতাহার হোসেন অ্যাওয়ার্ড, মাহবুবুল্লাহ জেবুন্নেসা ট্রাস্ট অ্যাওয়ার্ড, আবুল মনসুর মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, ১৯৮২ সালে হুমায়ুন কাদের মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, সুহৃদ সাহিত্য অ্যাওয়ার্ড, ট্রাই সাহিত্য অ্যাওয়ার্ড, চেতনা সাহিত্য অ্যাওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য।

 

 

"