অনলাইন ডেস্ক
  ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

ভাসানচরে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন একটি গঠনমূলক উদ্যোগ

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে। মিয়ানমার সরকার তাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়ে বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করে দেশত্যাগে বাধ্য করে। তারা এখন বাংলাদেশে। উদ্বাস্তুর তকমা লাগিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে কক্সবাজারের কটি এলাকায়। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে তাদের সে সময় আশ্রয় দেয়। এখনো তারা এখানেই বসবাস করছে। বাংলাদেশ তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। তারা সেখানে যেভাবে বসবাস করছে তাকে যন্ত্রণাদায়ক বলা যেতে পারে। সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার ভাসানচরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমন্বয়ে গড়ে তুলেছে একটি পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা। উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবন বদলে দেওয়ার সব আয়োজন রয়েছে এই ভাসানচরে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএইচসিআর) স্ট্যান্ডার্ড সেখানে এমন সব সুযোগ-সুবিধা মেনে তৈরি করা হয়েছে পরিকল্পিত আবাসন। রোহিঙ্গদের জন্য সেখানে এমন সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে, যা দেশের নাগরিকদের বড় একটি অংশ এখনো পায় না।

এদিকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সুবিধা দেওয়া দেশি-বিদেশি ২২টি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিদল গত রবিবার ভাসানচর পরিদর্শন করেছে। নির্মিত স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি সেখানে তারা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে আলোচনা শেষে কার্যক্রম শুরু করেছেন। নোয়াখালীর ভাসানচরের পরিবেশ ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেছেন, ‘কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচরের পরিবেশের পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল তুল্য। কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা খুপরি ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। ভূমিধসের পাশাপাশি আছে পানির স্বল্পতা। সেই তুলনায় ভাসানচর একটি পরিকল্পিত নগরী। পাকা দালান, খাবার পানিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা আছে।’

------
তথ্য মতে, প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা প্রথম দফায় কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে যেতে আগ্রহী। স্থানান্তরের ব্যাপারে জোর প্রস্তুতি চলছে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জোর করে কাউকেই ভাসানচরে নেওয়া হবে না। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে ভাসানচরে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন সদস্যদের পদায়ন করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার আদলে বানানো হয়েছে আধুনিক বাজার। মজুদ করা হয়েছে তিন মাসের খাদ্যসামগ্রী। হাতের মুঠোয় আনা হয়েছে বিদ্যুৎ। আমরা মনে করি, সরকার রোহিঙ্গাদের জীবনব্যবস্থাকে নান্দনিক করার লক্ষ্যে একটি নান্দনিক পরিকল্পনাসহ এগিয়ে চলেছে। আমরা জানি না, রোহিঙ্গারা কবে দেশে ফিরতে পারবে। বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থীশিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। চুক্তি সইয়ের তিন বছর পরও মিয়ানমারে তাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি। কবে হবে তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তাই, কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিশ্লেষকদের অভিমত, যারা ভাসানচরে যাবে তারা কক্সবাজার শরণার্থীশিবিরে থাকা যেকোনো সদস্যের চেয়ে উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

কারো কারো মতে, ভাসানচরকে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। প্রকল্প সফল হলে, সরকারের জন্য একইভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রকল্পের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন থেকে মুক্তি পেতে পারে আর কক্সবাজারের ওপর অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত যে চাপ পড়ছে, তা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পরিশেষে বলতে হয়, বাংলাদেশ সব সময় রোহিঙ্গাদের পাশে থেকেছে, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

 

"

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়