ব্রেকিং নিউজ

সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে গ্রামকেও এর সঙ্গে সংযোজন করতে হবে। কমাতে হবে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য। নতুবা উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত হবে। মূলত সেই দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে কৃষি বিপ্লবসহ অন্যান্য শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন করে গ্রামাঞ্চলে আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে তারই মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়টি যুক্ত করেন। যদিও অবয়ব ঠিক রেখে প্রতিটি গ্রামকে শহরের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের অনেক আগের। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটির ইশতেহারে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয় ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ পরিকল্পনা; যা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মুজিব শতবর্ষে দুই ভাগে ২৫টি গ্রামে শহরের সুবিধা দেওয়ার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার।

উন্নয়নের এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ পরিবেশ ও ঐতিহ্য অক্ষুণœ রাখা হবে। এক ভাগে ১০টি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দিতে কাজ করবে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। অপর ভাগে ১৫টি গ্রামের উন্নয়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গতকাল প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত ‘শহরের সুবিধা পাবে ২৫ গ্রাম’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে নির্বাচিত ১০ গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করা হবে। প্রাথমিক খসড়ায় ১৫ গ্রাম নিয়ে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা আছে তাদের। কোনো একটি অঞ্চল কিংবা গোষ্ঠী বা শ্রেণি যাতে বঙ্গবন্ধুর ওই স্বপ্ন থেকে বাদ না পড়ে; সে বিবেচনায় সমতলের আটটি এবং বিশেষ অঞ্চলের সাতটি গ্রামকে শহরের সুবিধা দিয়ে উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয়ভাবে এ কাজ করার জন্য ১৮টি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে মূল দায়িত্ব পালন করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গত নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, তাতে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ উদ্যোগ নেওয়ার বিশেষ অঙ্গীকার ছিল। সেটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

উন্নত জীবনের আশায় মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে। সে ক্ষেত্রে গ্রামে যদি শহরের সব সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে মানুষ আর শহরে আসবে না। সে ক্ষেত্রে গ্রামে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গুণগত মান এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। গ্রামে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা তৈরির জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা আছে। এজন্য সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ পরিকল্পনা বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে ডেল্টাপ্ল্যান হাতে নিয়েছে। একইভাবে আমার গ্রাম, আমার শহর প্রকল্পের কাজও চলছে। আমরা আশা করি, সরকার এই কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করবে। কারণ এর সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি যেমন যুক্ত; তেমনি মানুষের কল্যাণও নিহিত রয়েছে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নকে আরো গতিশীল করবে।

 

"