এনআইডি জালিয়াতি রোধে শুদ্ধি অভিযান সফল হোক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

মন্দ কাজে দুর্জনের কোনো শঙ্কা থাকে না। টাকার মোহ তাদের অন্ধ করে রাখে। আর সেই মোহের কারণেই তারা ভাসতে থাকে অনৈতিকতার সমুদ্রে। চারবাক দর্শনের এরাই এক-একজন সাহসী সৈনিক। অপরের ক্ষতি করে নিজের সম্পদ বৃদ্ধিই এদের একমাত্র লক্ষ্য। এদের নেই কোনো দেশ, দেশপ্রেম শব্দের সঙ্গে নেই কোনো যোগাযোগ। ক্ষেত্রবিশেষ এরাই সমাজের মাথা। তবে কথায় আছে, ‘চোরের দশ দিন আর গেরস্তের এক দিন’। জাতীয় নিবন্ধন পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন উইং ঘিরে চোরের উৎপাত বেড়েছে। গড়ে ওঠা জালিয়াত চক্রকে কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে এরাই করছে নকল এনআইডির রমরমা বাণিজ্য। চাকরির শর্ত ও অঙ্গীকার ভুলে কর্মস্থলকে ঠেলে দিচ্ছে হুমকির মুখে। নানা পন্থায়, অভিনব কৌশলে এবং প্রতারণা কৌশল বদলে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অণুবিভাগের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এনআইডি জালিয়াতিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছে। শুদ্ধি অভিযানে নেমেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। কিন্তু কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না দুর্বৃত্তদের তৎপরতা। হ্যাকারদের মতো দুর্নীতির নেশায় পাওয়া এ চক্রটি রয়েছে বহাল তবিয়তে। চাকরির বাইরে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মোহে করছে ক্ষমতার অপব্যবহার। অনিয়মের মধ্য দিয়ে এনআইডি সার্ভারকে ঠেলে দিচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধের পথে। অথচ এখানে দেশের ১০ কোটি ৯৮ লাখ নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত আছে। এ মুহূর্তে যদি এই অপতৎপরতা বন্ধ করা না যায়, তাহলে যেকোনো সময় মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে ইসিসহ পুরো জাতি ও রাষ্ট্র।

বিভিন্ন অনিয়ম, অপকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত এক যুগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে প্রায় অর্ধশত। কিন্তু তাতেও কোনো ফল আসেনি। অব্যাহত রয়েছে অবৈধ কার্যক্রম। এদিকে, ছবিসহ নয় কোটি ভোটার নাগরিককে স্মার্টকার্ড দিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১৩৭৯ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে কমিশন। আধুনিক প্রযুক্তিসংবলিত স্মার্টকার্ড প্রদানে ফ্রান্সের ওবারথু কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়। এই কোম্পানি যথাসময়ে স্মার্টকার্ড দিতে পারেনি এবং একই সঙ্গে এনআইডি সার্ভারে প্রবেশের অগ্রাধিকার চেয়ে ইসিকে বিব্রত করে। সার্ভারে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটে। বর্তমানে সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলছে কার্ড প্রদানের কার্যক্রম। অথচ এনআইডির সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্পর্শকাতর এই সার্ভারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নাগরিকদের কাছে সব বিশ্বসযোগ্যতা হারিয়ে প্রতিষ্ঠানের মান ক্ষুণ্ণ করেছে এনআইডির এই চক্রটি। এ চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সমাজের এক শ্রেণির অসাধু চক্র এনআইডি জালিয়াতি করে অন্যের সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে। জমি জালিয়াতিতে এনআইডির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা এনআইডি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাগিয়ে নিচ্ছে ছবিসহ ভোটার আইডি কার্ড। নকল আইডি কার্ড তৈরি করে ঋণ জালিয়াতির ব্যবস্থা করে দিচ্ছে এই চক্রটি। এত পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন সময়ে ইসির কড়া বার্তা সত্ত্বেও অনিয়মের পথ বন্ধ করা যায়নি। তাই এনআইডি জালিয়াতি চক্রকে থামাতে শুদ্ধি অভিযানের সূচনা করা হয়েছে। সারা দেশে চলবে এ শুদ্ধি অভিযান।

আমরা মনে করি, এ অভিযানই যেন শেষ অভিযান হয়। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।

 

 

"