রংপুর ব্যুরো
চিকিৎসককে মারধর
শাস্তি দাবিতে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একই দাবিতে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। এদিকে, রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং রোগীর মরদেহ আটকে রেখে তার ছেলেকে ‘কান ধরে উঠবস’ করানোর ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। গতকাল রবিবার সকাল থেকে রমেক হাসপাতালে কর্মবিরতি চলছে। গত শনিবারও ইন্টার্নদের কয়েক ঘণ্টার কর্মবিরতিতে বড় সমস্যায় পড়েন এ হাসপাতালের রোগীরা।
জানা গেছে ইন্টার্ন ডাক্তারকে মারধরের প্রতিবাদে রোগীর মরদেহ আটকে রেখে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তারা গত শনিবার বেলা ১১টা থেকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। দুপুরে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালে আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামিয়ে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে রাখা হয়। পরে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্ত রিফাতকে হাসপাতালে এসে ক্ষমা না চাইলে তার মায়ের মরদেহ দেওয়া হবে না বলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করেন নবীন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার ভোরে
নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূরনাহার বেগমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মৃতের ছোট ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী ও ইনডোর অফিসার ডা. রাকিব হাসানকে মারধর করেন তিনি। পরে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে হাসপাতালে ডেকে আনা হয়। তিনি পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান করছেন এমন খবরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস করানোর শাস্তির দাবিতে তারা হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পরিচালকের কার্যালয়ের ভেতরে রিফাতকে কান ধরে উঠবস করানোর পর তার মায়ের মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়।
"








































