তারুণ্যের শক্তিতেই দেশে আসবে সমৃদ্ধি

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৪১

সম্পাদকীয়

একটি দেশের তরুণ প্রজন্ম কতটুকু জ্ঞান-সমৃদ্ধ কিংবা দক্ষ হয়ে বেড়ে উঠছে, তা একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তরুণরাই যেকোনো উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তাদের ইতিবাচক বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের সঙ্গে একটা অন্তরের সম্পর্ক ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তিনি তাদের সংগ্রামের বাণী দিতেন, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সক্রিয়তায় উৎসাহিত করতেন, শিক্ষা এবং শিক্ষার আদর্শগুলো নিজেদের জীবনে ধারণ করার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। তরুণদের তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, অসত্য, অর্ধসত্যকে প্রত্যাখ্যান করতে, বঞ্চনা-অনাচার এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উদ্দীপনা জোগাতেন। তিনি চাইতেন বাঙালি তরুণ যুগের আদর্শগুলো ধরে রেখে বিশ্বমানব হোক।

বঙ্গবন্ধু প্রায়ই বলতেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষ চাই। বলতে গেলে, এ দেশের তরুণ প্রজন্মই হচ্ছে প্রকৃত সোনার মানুষ। যারা জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে ছিলেন প্রথম কাতারে। তাইতো ‘তরুণ তারুণ্যের মতোই, যে তারুণ্য তিমির বিদারী, সে যে আলোর দেবতা’ কাজী নজরুলের এই অভিভাষণের মতোই বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে তারুণ্যের শক্তিতে জ্বলে ওঠার। দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ আজ তারুণ্যের পতাকাবাহী। এ পতাকাতলেই জড়ো হয়েছে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন। বাঙালির স্বপ্নে যুগ যুগ ধরে তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব স্বপ্নের সূচনা তরুণদের চোখে-মুখেই ধরা দিয়েছে আলোর ঝলকানি হয়ে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ যেমন সম্ভাবনার দেশ; ঠিক তেমনি সম্ভাবনাময় এ দেশের তরুণ প্রজন্ম। নতুন প্রজন্মের উন্নতি মানেই দেশের সার্বিক উন্নতি। তাই হতাশ না হয়ে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গত বুধবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ফল ২০২০ সেমিস্টারের ভার্চুয়াল ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠদানের বিষয় নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নত দেশ গড়ার জন্য আমাদের উন্নত মানুষ প্রয়োজন। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে; যাতে তারা সারা বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। একা কখনো ভালো থাকা যায় না। সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যসহ অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশ এখন একটা মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় এসেছে। বর্তমান সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত এবং উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। তাই প্রয়োজন এ তরুণ সমাজকে সমৃদ্ধির মূলধারায় ধরে রাখা, তারুণ্যের মূল্যবোধকে অনুধাবন করা এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন। আর এ তারুণ্যের শক্তিতেই আসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি।

পিডিএসও/হেলাল