ভারতে করোনার ঊর্ধ্বমুখী, বাড়ছে মোদির জনপ্রিয়তাও

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৪:২৫

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা

ভারতে করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। লাদাখ সীমান্তে সমানে লালচোখ দেখিয়ে চলেছে চিন। অর্থনীতির অবস্থাও তথৈবচ। বারবার প্রশ্ন উঠছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব নিয়ে। কিন্তু পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখনও নরেন্দ্র মোদিকেই চাইছে দেশের একটা বড় অংশের মানুষ। করোনার গ্রাফের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মোদির জনপ্রিয়তা। অন্তত একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সমীক্ষা তেমনটাই ইঙ্গিত করছে।

ভারতে ২৪ ঘণ্টার নিরিখে করোনা সংক্রমণ শুক্রবারই প্রথম বার ৬০ হাজারের গণ্ডি টপকেছিল। সেই ধারা বহাল রইল শনিবারও। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৬১ হাজার ৫৩৭ জন। এর ফলে সারা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২০ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬১১। শনিবার করোনা সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের উপরেই রয়েছে। সারা দেশের করোনা পরিস্থিতিতে উদ্বেগের ছবিটা ফের এক বার উঠে এসেছে শনিবার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সূত্র অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৯৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৪২ হাজার ৫১৮।

সংক্রমণের সংখ্যার নিরিখে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে ভারত। প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে যথাক্রমে আমেরিকা এবং ব্রাজিল। কিন্তু দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে ওই দু’টি দেশকে ছাপিয়ে প্রথম স্থানেই রয়েছে ভারত। চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এক-একটি রাজ্যে এক-এক সময়ে শীর্ষে পৌঁছাবে করোনা সংক্রমণ। অর্থাৎ, দেশ জুড়ে একবারে নয়, বরং বিভিন্ন অংশে বিচ্ছিন্ন ভাবে একাধিক বার (মাল্টিপল) সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঘটবে করোনার। মৃত্যুর নিরিখে সারা দেশে প্রথম মহারাষ্ট্র ১৭ হাজার ৯২ জন। এছাড়াও তামিলনাড়ুতে ৪ হাজার ৬৯০, দিল্লিতে ৪ হাজার ৮১, কর্নাটকে ২ হাজার ৯৯৮, অন্ধ্রপ্রদেশে ১ হাজার ৮৪২, উত্তরপ্রদেশে ১,৯৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিদিন যে সংখ্যক মানুষের পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে যত শতাংশের কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, সেটাকেই বলা হচ্ছে পজিটিভিটি রেট বা সংক্রমণের হার। গত কয়েক দিন ধরে তা ১০ শতাংশের নীচেই ছিল এই হার। কিন্তু শুক্রবার তা বেড়ে হয় ১০.৮৮ শতাংশ। ওই দিন দেশে টেস্টের পরিমাণ কিছুটা কম ছিল। শনিবার গত ২৪ ঘণ্টায় দেশ জুড়ে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৭৮ জনের। সংক্রমণের হার কিছুটা কমে এ দিন হয়েছে ১০.২৮ শতাংশ। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও, ভারতে করোনা রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার পরিসংখ্যানটাও শুরু থেকেই স্বস্তি দিয়ে আসছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ লক্ষ ২৭ হাজার ৫ জন করোনা আক্রান্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। অর্থাৎ দেশে মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৮.৩২ শতাংশ সুস্থ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৮ হাজার ৯০০ জন।

এর মধ্যেই ইন্ডিয়া টুডে এবং কার্ভি ইনসাইটের করা যৌথ মুড অফ দ্য নেশন সমীক্ষা বলছে, দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিংহভাগ মানুষের প্রথম পছন্দ, নরেন্দ্র মোদি। এখনও দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ মনে করছেন মোদির নেতৃত্বেই প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে আত্মনির্ভর হতে পারে ভারত। প্রধানমন্ত্রীর থেকে অনেক পিছিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৮ শতাংশ মানুষের সমর্থন। কংগ্রেসের বর্তমান সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী পেয়েছেন পাঁচ শতাংশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরেরা নগণ্য ভোট পেয়েছেন। জানুয়ারিতে যখন এই সমীক্ষা করা হয় তখন মোদি পেয়েছিলেন ৫৩ শতাংশ ভোট। রাহুলের জুটেছিল ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ গত কয়েকমাসে করোনা পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। রাহুলের লাগাতার আক্রমণেও খুব একটা কাজ হচ্ছে না। এদিকে ওই সমীক্ষাতেই লাগাতার তৃতীয়বার দেশের সেরা মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। যোগীর পক্ষে ভোট পড়েছে ২৪ শতাংশ। আগেরবার যখন এই সমীক্ষা করা হয়েছিল তখন যোগী পান ১৮ শতাংশ ভোট। দেশের সেরা ৭ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ৬ জনই অকংগ্রেসি, এবং অবিজেপি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমীক্ষায় দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থান পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তৃতীয় স্থানে অন্ধ্রের ওয়াই এস জগনমোহন রেড্ডি।