অনিক আহমেদ

  ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

শিক্ষানগরীতে প্রথম ভ্রমণ

ছবি: প্রতিনিধির সংবাদ

দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষানগরী ময়মনসিংহ ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল। বিভিন্ন ব্যস্ততায় হয়ে উঠছিল না। সম্প্রতি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন গবিসাসের কমিটি গঠনের পর সদস্যরা ডে ট্যুরের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে। সে মোতাবেক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘোরার চিন্তা করি। ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিন সকাল আটটায় নবীনগর থেকে ৬ জন রওনা করে গাজীপুর চৌরাস্তা পৌছাই। সেখানে যুক্ত হন গবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আসিফ আল আজাদ।

সাতজন ময়মনসিংহের বাসে উঠি। গাড়িতে দুই ঘন্টার যাত্রায় সাংবাদিকতা সহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা হয়। নতুনরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মত, চিন্তাভাবনা প্রকাশ করে। গল্পে-আড্ডায় দ্রুতই গন্তব্যে পৌছে যাই। তখন দুপুর। অনেকের শিক্ষানগরীতে এটি প্রথম ভ্রমণ ছিল। শহরের প্রাণকেন্দ্রের পাশেই বাকৃবি ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই বিভিন্ন স্থানে স্বগর্বে দাড়িয়ে থাকা ফুল গাছগুলো যেন আমাদের বরণ করে নিচ্ছিল।

ফুলের ক্যাম্পাস তকমা পাওয়া বাকৃবির পুরো অংশজুড়েই রয়েছে ফুলের বিশাল সমারোহ। আমরা প্রথমে টিএসসিতে কিছুক্ষণ আড্ডা দিই। এরপর রেললাইন ঘুরে আসি। পাশেই ছিল 'লো-ডাউন' ব্রিজ। সেখানে ফটোসেশন শেষ করি। ইতোমধ্যে পাশ দিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলে একটি ট্রেন। আধা ঘন্টা পর ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড় থেকে দুপুরের খাবার সম্পন্ন করি।

এরপর বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাত হয়। সমিতির সদ্য বিদায়ী সভাপতি আবুল বাশার মিরাজ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখান। বোটানিক্যাল গার্ডেন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি চত্বর, ব্রক্ষপুত্র নদের পাড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখি। গার্ডেনে বিভিন্ন ধরণের বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ, ছোট বড় বৃক্ষের সন্ধান পাই। সচরাচর দেখা মিলেনা, এমন অনেক কিছুই চক্ষুগোচর হয়। স্মৃতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় স্থানে নিজেদের ফ্রেমবন্দি করি।

এভাবে বিকাল গড়িয়ে আসে। বাকৃবিসাস কার্যালয়ে তখন দুই সমিতির সদস্যরা মিলিত হই। কথা হয় বিভিন্ন বিষয়ে। তাদের থেকে বিদায় নিয়ে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সাথে সাক্ষাত করি।

সন্ধ্যার পর শিল্পাচার্য জয়নাল আবেদীন পার্কে নিজ ক্যাম্পাসের এক দম্পতির সাথে দেখা করি। সেখানে ব্রক্ষপুত্র নদের তীরে ঘন্টাখানেক অবস্থান করি। চায়ের কাপে চুমু, সাথে চলে আড্ডা।

সময় গড়িয়ে ঘড়ির কাটায় রাত তখন আটটা। এবার ফেরার পালা। পুনরায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে পৌছাই। বাসযোগে রাত সাড়ে বারোটায় সকলে নবীনগর ফিরি। এভাবে শিক্ষানগরীতে একদিনের আনন্দ ভ্রমণের গল্প শেষ হয়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
শিক্ষানগরী,ময়মনসিংহ,ভ্রমণ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close