গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও কর্মকর্তা

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫৭

নাহিদ হাসান রবিন, শেরপুর (বগুড়া)

বগুড়ার শেরপুরে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন একতা উন্নয়ন সংস্থা নামের এক এনজিও কর্মকর্তা। সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সমিতির ভুক্তভোগী সদস্যরা।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে শেরপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডক্টরস কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলায় একতা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতি কার্যালয় চালু হয়। সরকারি কোনো নিবন্ধন না নিয়েই সংগঠনের চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান ও তার স্ত্রী সদস্য সচিব নাজনীন আকতার সদস্য ভর্তি ও তাদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন। মোটা অংকের মুনাফা ও ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে এনজিওটি প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করে তাদের প্রত্যেকের নামে একাধিক সঞ্চয়ের বই খুলে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় করে। গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে তাদের সঞ্চয়ের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান। 

তবে সমিতির সদস্য সচিব নাজনীন আকতার বাসায় অবস্থান করলেও তিনি অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে কারও সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন না। এমনকি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারেও কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না। 

সমিতির সদস্য সোহেল রানা জানান, তিনি একাই একাধিক বই খুলে ২ লাখ ৮ হাজার ৭০০ টাকা সঞ্চয় জমা করেছেন। একইভাবে টুকু মিয়া, সামছুল হক, সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই সদস্য হিসেবে সঞ্চয় জমা রেখেছেন। কিন্তু কেউ টাকা ফেরত পাননি। তাদের সবারই সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে গত রোববার সন্ধ্যার দিকে উধাও হয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান।

মানছুরুর রহমানের উধাও হওয়া নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডক্টরস কমপ্লেক্সের অনেক ব্যবসায়ী জানান, একতা সমিতি নামের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪/৫শ গ্রাহক রয়েছেন। সদস্যরা সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় রেখেছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবকে আসতে দেখা যাচ্ছে না, এমনকি নতুন করে আর সঞ্চয় নিতে দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে একতা উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে নাজনীন আকতার তার স্বামী উধাও হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সদস্যদের কিছু কিছু করে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সমিতির সব সদস্যকেই সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

এ ব্যাপারে বগুড়ার শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। তবে সমিতির কোনো সদস্য এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিডিএসও/হেলাল