রিয়াজ মুন্না, চবি

  ২৬ অক্টোবর, ২০১৯

রমরমা বাণিজ্যে অসহায় চবির ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা

রাত পেরুলেই পরীক্ষা। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২১০০ একরের ক্যাম্পাসে আসছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্য তাদের শাটলের ক্যাম্পাসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ। অপরদিকে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের সব ক্ষেত্রেই চলছে রমরমা বাণিজ্য।

প্রায় সব ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকদের ক্যাম্পাসে চলতে, খাবার খেতে এবং রাতে অবস্থান করতে অস্বাভাবিকহারে মূল্য চুকাতে হচ্ছে। দুই-তিনদিন ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে যে খরচ হচ্ছে তা অনেক মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর জন্য নাভিশ্বাস।

ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকদের পকেট কাটার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সব ধরনের ব্যবসায়ীরা। ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন থেকেই ভোজবাজির মত বেড়ে গেছে সবকিছুর দাম। রিকশা ও অটো ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ইচ্ছেমতো। আর সব ধরনের খাবারের দোকানে নেওয়া হচ্ছে গলাকাটা দাম। ব্যাবসায়ী ও বাসা মালিকদের পকেট কাটার প্রতিযোগিতায় অতিষ্ঠ ভর্তিচ্ছুরা। বাসা ও মেসগুলোতে থাকতেও গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকরা। তবে এর যেন কোনো প্রতিকার নেই। এমনকি দেখারও কেউ নেই।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা ভর্তিচ্ছু নাবিল হাসান এর ভাষ্যমতে, রেলস্টেশন থেকে অটোরিকশায় চড়ে ক্যাম্পাসের আবদুর রব হলের গেটে যাই। অটোচালক তার কাছ থেকে ভাড়া নেয় ৩০ টাকা। যা স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণ। নেমে পাশের হোটেলে খাবার খান তিনি। দুই প্লেট ভাত, এক টুকরো মাছ ও ডালের জন্য হোটেল মালিক তার কাছ থেকে নেয় ৮০ টাকা। যা অন্য সময়ের দামের চেয়ে দ্বিগুণ।

এখানেই শেষ নয়, জিরো পয়েন্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে যেতে রিকশা নেয় অপর এক ভর্তিচ্ছু। রিকশাচালক ভাড়া নেয় ২০ টাকা। অথচ ওই রাস্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা ভাড়া ১০ টাকা।

ঈশিতা নামের এক নারী শিক্ষার্থী জানায়, লেডিস ঝুপরি থেকে এক লিটার কোমল পানীয় নেয় সে। যার মূল্য স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ টাকা বেশি রাখা হয়েছে। এছাড়াও জিরো পয়েন্ট ও শহীদ মিনারে ৩০ টাকার চটপটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। সবকিছুতেই বেশি দাম রাখা হচ্ছে।

অপরদিকে ক্যাম্পাসের ফ্ল্যাট ও মেসগুলোতেও ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবক রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। চবির দক্ষিণ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তার নিজস্ব ফ্ল্যাটে মেস করে শিক্ষার্থীরা থাকেন। নিয়মিত ভাড়া দিয়ে থাকলেও তাদের কাছে আসা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক থাকার ক্ষেত্রে জনপ্রতি ১০০ থেকে ১০০০ টাকা বাড়তি আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভর্তিচ্ছু মেয়েকে নিয়ে আসা নাজমুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘চট্টগ্রামে আমার কোনও আত্মীয় নেই। তাই রাতে এখানে থাকতে হবে। আমার মেয়েকে এক রাতের জন্য তালুকদার ভবনে রাখতে ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

এছাড়াও মেসগুলোতে অতিথি হিসেবে থাকার জন্য ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেসগুলোতে ভর্তিচ্ছুদের কাছ থেকে প্রতি রাতের জন্য ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো মেসে বিছানায় থাকলে দু’শ’ এবং মেঝেতে থাকলে একশ’ টাকা নিয়মেও টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, মেস মালিকদের বলা হয়েছে তারা যেন অতিথিদের সহযোগিতা করেন।ক্যাম্পাসের ভেতরে কেউ যাতে খাবারের দাম ও ভাড়া বেশি না নিতে পারে তার জন্য মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে কোনো কিছুর দাম বেশি নেওয়া হলে তার দায়ভার আমাদের নয়।

পিডিএসও/রি.মা

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
চবি,রমরমা বাণিজ্য
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়