হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

  ১৪ অক্টোবর, ২০২১

হাজীগঞ্জে হামলা-গুলি ও নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

কুমিল্লা শহরের একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার খবরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হামলা-ভাঙচুর ও পুলিশের গুলিতে তিন কিশোরসহ ৪ জন নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর)এ কথা জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল), হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের ডিডি (উপ-পরিচালক)।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লার পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার খবরে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। এসময় মিছিলকারীদের ওপর স্থানীয় একটি পুজামন্ডপ থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ওই পুজামন্ডপের গেট ভাঙচুরের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষোভকারীরা। এতে পুলিশের গুলিতে ৩ কিশোরসহ ৪ জন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন আরও ৪জন। এছাড়া সংঘর্ষে ১৭ পুলিশ সদস্যসহ আহত হন ২১জন। 

এ ঘটনায় আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। বিকালে তিনি প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাদের সাথে নিয়ে হামলার শিকার পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। 
    
পরিদর্শন শেষে সংবাদকর্মীদের আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, দেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য একটি অপশক্তি কাজ করছে। তারা উস্কানি দিয়ে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্যে এই অপকর্মটি করেছে। 

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, পুজামন্ডপে হামলার অপশক্তি চিহিৃতকরণের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি এদেরকে চিহিৃত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

তিনি বলেন, হাজীগঞ্জের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া  কুমিল্লার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ৭৩ জনকে আটক করা হয়েছে। 

ডিআইজি আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের দন্ডবিধিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফায়ার (গুলি) করতে পারে। এখানে যখন মানুষের সম্পদ ও জীবনের উপর আঘাত আসছে, তখন সঙ্গত কারণেই এবং আত্মরক্ষায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ফায়ার করেছে। এরপরেও এই বিষয়টির এক্সিকিউটিভ (নির্বাহী) ইনকোয়ারি (তদন্ত) হবে।

এ সময় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইকবাল হাসান, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, হাজীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মো. নাছির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন ও পৌরসভা মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপনসহ, হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
চাঁদপুর,পূজা,গুলি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close