কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

  ১৩ অক্টোবর, ২০২১

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ৮ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ! 

প্রতীকী ছবি

বিয়ের নাটক সাজিয়ে বছরের পর বছর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার ঘটনায় থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেছে নির্যাতিতা চলিশোর্ধ শাহিদা (ছদ্ম নাম)। কিন্তু অভিযুক্ত মো. নয়ন মিয়ার(৪৫) বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ৮ দিনেও আমলে নেয়নি কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

গত বুধবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে অভিযোগ করার পর বুধবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি। গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার ওসি বলছেন, সার্কেলের অনুমতি ছাড়া থানায় মামলা হবে না। 

অভিযুক্ত নয়ন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের মাথিচর গ্রামের আমান উল্লাহর ছেলে। বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার মুনশুরপুর এলাকায় স্ত্রী, কন্যা ও দুই পুত্র সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে কালীগঞ্জ বাজারে সবজি ও ফলের ব্যবসা করেন। 

ভূক্তভোগী শাহিদা জানান, স্থানীয় কাউন্সিলরদের কাছে বিচার না পেয়ে গত ৬ অক্টোবর দুপুরে একটি অভিযোগ করেন। ওইদিন অভিযোগটি ডিউটি অফিসার এসআই এইচএম ইমন গ্রহণ করেন। পরে একাধীকবার থানায় গিয়ে এবং ফোনে কথা বলার পরও ৮ দিনে মামলাটি রুজু হয়নি।

গত সোমবার (১১ অক্টোবর) রাতে কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা ইয়াসমিনের সাথে ফোনে কথা বলার চেষ্টা করেন। তিনি ফোন রিসিভ করে পরিচয় দেওয়ার পর মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে ফোন রেখে দেন। পরে তিনি পূনরায় একাধীকবার ফোন দিলেও তা রিসিভ করেননি।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সকালে ওসি’র সাথে দেখা করে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমার কিছু করার নাই। সার্কেল স্যারের কাছে যান। ওনি বললে মামলা হবে’। তিনি ওই সময়ই সার্কেল অফিসে গেলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরে ভূক্তভোগী গাজীপুর পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে নয়নের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের কপিতে ওসিকে মার্ক করে বলা হয় অনুসন্ধান পূর্বক ব্যবস্থা নিতে।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ওই কপি ওসির কাছে নিয়ে গেলে তিনি তা রেখে আরেক কপি সার্কেলকে দিতে বলেন। কিন্তু ওই কপি দিতে গেলে সার্কেল অফিস থেকে বলা হয় ‘এটা এখানে দেওয়ার দরকার নাই। ওসিকে মার্ক করেছে ওখানে দিলেই হবে’।  

তিনি আরো বলেন, অভিযোগের পর তাকে আগের চেয়ে আরো বেশি তুচ্ছ-চাচ্ছিল্য করছে নয়ন। তাকে নষ্ট মহিলা হিসেবে বাজারের অন্য ব্যবসায়িদের সাথে বলছে। এছাড়া মারধর, প্রাণনাশ ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হুমকিও দিয়ে বেড়াচ্ছে সে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। তাই তার কিছুই হবে না বলে বেড়াচ্ছে এবং বহাল তবিয়তে বাজারে নয়ন তার ব্যবসা পরিচালনা করছে।  

এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) কায়সার আহমদ বলেন, আমাকে ওই অভিযোগের তদন্তভার দেওয়ার পর তদন্ত করে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। 

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, অভিযোগ দেওয়ার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেখছেন। সার্কেল স্যার বললে আমি মামলা নিব। ওনি না বললে আমার পক্ষে থানায় মামলা নেওয়া সম্ভব না। ভূক্তভোগীকে আদালতে মামলা করতেও বলেন পুলিশের ওই কর্মকর্তা।   

তবে ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা বুধবার দুপুর ১টার দিকে কালীগঞ্জ সার্কেল অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা ইয়াসমিকে না পেয়ে তার ব্যবহৃত সরকারী মোবাইল ফোনে একাধীকবার ফোন দিয়ে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কালীগঞ্জ,গাজীপুর
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close