কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ১২ জুন, ২০২১

আকাশের তারা দেখার অভিনব ঘড়ি আবিষ্কার রাজমিস্ত্রীর

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের এক রাজমিস্ত্রী আবিষ্কার করলেন আকাশের তারা দেখার ভার্চুয়্যাল এক অভিনব ঘড়ি। দীর্ঘ এগারো বছর তিনি গবেষণার মাধ্যমে এই অভিনব ঘড়ি উদ্ভাবন করেন। নাম তার ওসমান খাঁন।

এই অভিনব ঘড়ি বিষয়ে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১১ বছর গবেষণা করে এমন একটি ঘড়ি উদ্ভাবন করেছি, যেটা আমাদের পৃথিবী থেকে দিন-রাত মিলিয়ে যে তারাগুলো আকাশে দেখতে পাই সে-ই তারাগুলোই এর মধ্যে দেখা যাবে।

মহাকাশে অগণিত অজস্র তারা রয়েছে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। তারপরও যতদূর দেখা যায়, আমি ১১ বছর ধরে প্রতি রাতে আকাশের তারার সঙ্গে মিল রেখে এই ঘড়িতে মানচিত্র আকারে এক একটা করে তারার প্রতিকৃতি স্থাপন করছি। আমাদের পৃথিবী থেকে আকাশে যে যে স্থানে যে তারাগুলো দেখতে পাওয়া যায়, ঠিক সেই সে-ই স্থানেই সেই সময়ে এই ঘড়িতে (আলো দ্বারা সৃষ্ট) ওই তারাগুলো জ্বলে উঠবে।

পৃথিবীটা ঘূর্ণয়নের ফলে তারাগুলোর দেখার পরিবর্তন ঘটে যেমন জুন-জুলাই মাসে আকাশে যে তারাগুলো যে স্থানে দেখতে পাওয়া যায় আগস্ট-সেপ্টেম্বর সেখানে অন্য তারা দেখা যাবে। এই ঘড়ির মধ্যে একই অবস্থা, মাস অনুযায়ী ঘড়ির মধ্যে তারার পরিবর্তন ঘটবে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে আকাশে যেখানে যে তারাগুলো দেখতে পাওয়া যাবে ঠিক সেই স্থানেই ঘড়ির মধ্যে সে-ই তারাগুলো দেখতে পাওয়া যাবে। সন্ধ্যার সময় যে তারাগুলো আকাশে দেখা যাবে, রাতে কিন্তু সেই স্থানে সেই তারাগুলো দেখতে পাওয়া যাবে না। অন্য তারা দেখা যাবে। আমার ঘড়িতেও সন্ধ্যায় যে তারাগুলো দেখা যাবে, রাতে সেই স্থানে সেই তারাগুলো দেখা যাবে না অন্যগুলো দেখা যাবে। আকাশের তারার সঙ্গে মিল রেখেই এই ঘড়ি তৈরি করেছি।

যেমন ধরুন, আজ রাত ১০টায় আকাশে যে যে স্থানে তারাগুলো অবস্থান করবে। ঠিক সেই স্থানেই এই ঘড়িতেও তারাগুলোর প্রতিকৃতি জ্বলে উঠবে। মনে হবে ঘড়িটা একটা আকাশ।

তিনি আরো বলেন, আমরা সূর্যের আলোর জন্য দিনের তারাগুলো আকাশে দেখতে পাই না। কোন তারাগুলো কোন স্থানে আছে। এই ঘড়িটা নির্ণয় করে দেবে দিনের বেলায় কোন স্থানে কোন তারাগুলো অবস্থান করছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশের সব তারা দেখা যাবে না বরং পাঁচের একাংশ দেখা যাবে বলে আমি মনে করি। চেষ্টা করলে ঘড়ির মানচিত্রে আকাশের সমস্ত তারাই স্থাপন করা যায়, যেগুলো খালি চোখে দেখতে পেরেছি সেগুলোই স্থাপন করেছি।

শুধু তারা নির্ণয় নয়, এই ঘড়িতে আরো কিছু মজার বিষয় আছে, যেমন আজ থেকে আগামী পনেনো দিন পর চন্দ্রের কাছে কোন তারাগুলো অবস্থান করবে সেগুলো আগের থেকেই দেখা যাবে ঘড়িতে।

এছাড়া আগামী বছর একই দিনে এই সময়ে অন্য গ্রহগুলো কে কোন অবস্থায় থাকতে পারে সেই সিগন্যালও দিয়ে দেবে এই ঘড়ি। ঘড়িতে ২৪টি কাঁটা আছে এবং বছর, মাস, সপ্তাহ, দিন সময় সবকিছুই নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘড়িটা এখনো এনালগ হিসেবে কাজ করে, হাতে চালাতে হয়। এটাকে ডিজিটাল রূপ দিতে হলে কাঁটা লাগাতে হবে এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি সেট করতে হবে, তাহলেই পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ পাবে আকাশের তারা নির্ণয়ের ঘড়ি।

এই অভাবনীয় ঘড়ি দেখতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোয়ান মাহমুদ ও রাজীব বলেন, অভাবনীয় আবিষ্কার, আকাশের তারা নিয়ে গবেষণা করে যে ঘড়ি আবিষ্কার করেছেন তা সত্যিই চমক লাগার বিষয়। এ ধরনের ঘড়ি এখনও দেখিনি। তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে এই ঘড়ি আবিষ্কার করেন।

দেখা গেল রাত ৯টার দিকে আকাশে যে যে স্থানে তারাগুলো জ্বল জ্বল করে দেখা যাচ্ছে, ঠিক সেই স্থানেই ঘড়ির মানচিত্রের উপর ওই তারাগুলো জ্বলে উঠছে। রাতের তারা দেখতে হলে আকাশের তারা দেখার দরকার নেই ঘড়ির মানচিত্রের উপর তাকালেই দেখা যাচ্ছে কোন তারাটা কোন স্থানে আছে। তার এই আবিষ্কারের আমরা মুগ্ধ।

ওসমান খান একজন সাধারণ পরিবারের ছেলে। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। তবে এখন রাজমিস্ত্রী ছেড়ে স্কাবেটর কাজের সাথে জড়িত আছেন। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোন লেখা পড়া করতে পারেননি। তিনি উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের মোঃ আওলাত খানের ছেলে।

তার ইচ্ছা এই ঘড়িটা বিশেষজ্ঞদের দেখানো। তাঁরা দেখুক আমার থিওরি ঠিক আছে কি না। যদি প্রমাণ সহ ঘড়ির থিওরি ঠিক থাকে তাহলে এই ধরনের ঘড়ি সবাই ব্যবহার করে তাঁরা ঘরে বসেই সময় সহ আকাশের তারা নির্ণয়, দিনের বেলায় তারাগুলো কথায় অবস্থান, দিনে চাঁদের অবস্থান কোথায় ইত্যদি সবকিছুই জানা সম্ভব।

মুকসুদপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জোবায়ের রহমান রাশেদ বলেন, না এই ঘড়ির বিষয়ে আমাকে কেউ এখনো জানায়নি, আর সে এখনো আমাকে এই ঘড়িটি দেখায়নি, ওনি আমাকে ঘড়িটি দেখাবে, এরপর  প্রজেক্টটি কোথাও পাঠাতে পারব বা কোন কিছু করতে পারব কি না দেখতে হবে। এই প্রজেক্টটির বিষয়ে  আমার আগে জানতে হবে।

পিডিএসও/ইউসুফ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
গোপালগঞ্জ,মকসুদপুর,রাজমিস্ত্রি,অভিনব আবিষ্কার,তারা দেখার ঘড়ি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close