ব্রেকিং নিউজ

বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ভেসে গেছে ৮ হাজার চিংড়ি ঘের

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৪১

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্মচাপের প্রভাবে বাগেরহাটে গত দু’দিন ধরে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার চিংড়ি ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এছাড়া ১০ থেকে ১৫ হেক্টর শীতকালিন বিভিন্ন সবজি ও পানের ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, জেলার মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, ফকিরহাট ও মংলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। এসকল অঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় রান্না-বান্নার সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। অসময়ে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাওয়া পরিবারগুলো অবর্ননীয় দুর্দশায় পড়েছে। 

এছাড়া, নিম্নচাপের প্রভাবে মোংলা বন্দরে ৪নং হুশিয়ারি সংকেত জারির পর থেকে বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রয়েছে। ৪নং সংকেত জারির পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোলরুম রুম খোলা হয়েছে। 

অপরদিকে, বৃষ্টিতে সকাল থেকেই বাগেরহাট শহরের রাস্তা ঘাট ছিল ফাকা। বৃষ্টিপাতের ফলে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে পারছে না। কৃষিতেও প্রভাব পড়েছে এ ভারী বর্ষণে। বাগেরহাট সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাট বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কোনও কোনও এলাকায় বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় দেখা দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া, ষাটগম্বুজ, ডেমা, রাধাবল্লব, কাশিমপুর ও বাগেরহাট পৌরসভার খারদ্বার, বাসাবাটি, হাড়িখালী, নাগের বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকা  জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।  

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ খালেদ কনক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্মচাপের প্রভাবে গত দু’দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার ৭ থেকে ৮ হাজার চিংড়ি ঘের ও পুকুর ডুবে গেছে প্রথমিক ভাবে জানা গেছে। এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান। 

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, গত দু’দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে জেলার ১০ থেকে ১৫ হেক্টর শীতকালিন বিভিন্ন সবজি ও পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি। এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।